তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

আমার কি কার্ড অইতোনা বাজান

আমার কি কার্ড অইতোনা বাজান
[ভালুকা ডট কম : ১১ জুলাই]
হঠাৎ একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে। ব্যাস্ততা থাকায় দু'বার ফোনটা কেটে দিলাম। এরপর বিরক্ত হয়েই রিসিভ করলাম। কে বলছেন? কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,আমি দর্শার পাড় থেকে কইতাছি। নুরজাহান বিবি! আমার কার্ডটা কি অইতোনা বাজান?  আবারও জিজ্ঞেস করলাম, কোন নুরজাহান? কে ?  কে আপনি? হঠাৎ মনে পড়ে গেলো। সেই চিরচেনা কন্ঠ নুরজাহান বিবির কথা। যেই নুরজাহান বিবি কদিন আগেও নিজের দুঃখের কথা বলেছেন।

বলেছেন তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির কথা। বাবা!  হোন্ডার নিচে পইরা একটা পা ভাইংগা গেছে।উঠবার পায়না বাবা!আডাচাড়া(নড়াচঁড়া) করবার পায়না! মাইনসে টাইন্যা (টেনে) নিয়া গেলে যাইবার পাই! এক পোলা অসুখে মইরা গেছে! আরেক পুলা আছে সেও কঠিন অসুগে ঘরে পইরা আছে! মাইয়া একটা তার স্বামীও ফালাইয়া রাইখা গেছে।ঐ মাইয়াডাই আমারে দেহে। মাইয়াই তো খাইবার পায়না। আমারে কেমনে দেখবো। আমারে একটা কার্ড দিলাইননা। আইন্যেরা না দিলে দেখবো কেডা! বয়স অইছে। মইরা যামুগা।আজ সেহরির সময় হুডা করলা ভাঁজা দিয়া ভাত খাইছি।রোযা ভাংবার মন চাইনা। ভালাতো কিছু পাইনা! পুতেরইতো চলেনা, নইলেতো খাওন দিতই। হেই ঘরে পইরা আছে। চেয়ারম্যানের কাছে কয়বার গেলাম! দেয়না কিছু! সেই গেলো রমজান মাসে এ প্রতিবেদককে কাছে পেয়ে এইভাবেই করুন সুরে কথাগুলো বলেছিলেন রোযা রাখা অবস্থায় ৯২ বছর বয়সের এক বৃদ্ধা নারী। তার বাড়ি উপজেলার ৩নং কৈচাপুর ইউনিয়নের দর্শারপাড় গ্রামে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বয়সেও সে একটি রোযা ভাঙ্গেনি তখন। কিছু জিজ্ঞেস করলে কথা বলতে গিয়ে অবাক দৃষ্টিতে ফ্যাঁলফ্যাঁল করে তাকিয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে নিরব হয়ে যায়।একপর্যায়ে ভাঙ্গা পা দেখিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ে।

স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সুরবানু বলেছিলেন, উপজেলায় চার দিন মারে নিয়া গেছি। কইছে ছাগল দিবো, কার্ড দিবো। মেম্বারে দুইদিন যাইবার কইছে। পরে গেছি। পরে কিছুই দেইনাই। নামই নিছেনা! ছাগল দিবো কেমনে! বইয়া থাইকা চইলা আইছি। কত গেলাম, পাত্তাই পাইনা! কত বেহেরি ধরলাম! কিছুই পাইলামনা। মাইনসে বয়স্ক ভাতা পায়, বিধবা ভাতা পায়। আমরা কিছুই পাইনা।পরে ঐ মহিলার অসুস্থ্য ছেলে রহেদ আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেছিলেন, আমিও ঘরে পইরা আছি। শরীর ফুইলা গেছে আমার। শ্বাসকষ্ট হাপানীতে ভুঁগছি।মারে ঠিকমতো দেখবার পাইতাছিনা। ৭ বছর যাবত পা ভাইংগা ‘মা’ ঘরে পইরা আছে। ডাক্তার ময়মনসিংহ নিবার কইছিলো। অপারেশান করতে। লাখ খানেক টেহা লাগবো। এতো টেহা পাইবাম কই। পরে আর নিবার পাইনাই।জানা যায়, এই বয়সেও একটি রোযাও ভাঙ্গেনি নুরজাহান বিবি। তবে তার শরীর ভালো নেই। রোগ শোকে জর্জরিত। হয়তো একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলে শান্তিতে মরতে পারতেন কিছুটা হলেও তৃষ্ণা মিটিয়ে। সেই নুরজাহানের চাওয়া একটাই, একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড! #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

লাইফস্টাইল বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই