তারিখ : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে

রাণীনগরে কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে,ভারী বৃষ্টিপাতে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত
[ভালুকা ডট কম : ০৪ আগস্ট]
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে ও উজানের ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার কয়েকটি মাঠে শতাধিক হেক্টর জমির রোপণকৃত ধান পানির নিচে তলে গেছে। এ ছাড়া প্রায় ৮হেক্টর বীজতলাও ডুবে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার সাথে এলাকায় ধানের চারার সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন কৃষকেরা।

জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১২হাজার ৫শত ৫৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের উফসি ধান এবং ১শত৮০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৬ হাজার ৪শত ৫৫ হেক্টরে ধান রোপণ করা হবে। মৌসুমের শুরু থেকেই বৃষ্টির অভাবে ধান রোপণে কিছুটা দেরি হলেও বেশ কয়েকটি স্থানে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে ধান রোপণ শুরু করে কৃষকরা।

অফিস সূত্রে জানা, গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণে রাণীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিম্বা, খাগড়া, লোহাচুড়িয়া, সিংড়াডাঙ্গা, চকবোলারাম মাঠ, গোনা ইউনিয়নের কুজাইল, বেতগাড়ী, কৃষ্ণপুর মাঠ, পারইল ইউনিয়নের বিলপালশা, বিলকৃষ্ণপুর, বোদলা, পারইল মাঠ, কালীগ্রাম ইউনিয়নের, রঞ্জনিয়া, বেলঘড়িয়া, মাধাইমুড়ি, আনালিয়া, খলিশাকুড়ি মাঠ, একডালা ইউনিয়নের একডালা, মনোহরপুর, তালিমপুর, শিয়ালা, স্থলসহ বেশ কিছু এলাকার মাঠ প্লাবিত হয়েছে। এতে সদ্য রোপণকৃত শতাধিক হেক্টর জমির ধান ও প্রায় ৮ হেক্টর জমির বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া দুই দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টিপাতের ঢলের পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে উপজেলার কৃষকরা তাদের রোপনকৃত আমন ধান এবং অবশিষ্ট চাষকৃত জমি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

চকবোলারাম গ্রামের কৃষক তোতা হোসেন বলেন, চলতি আমন মৌসুমে খরার কারণে ধান রোপন করা কিছুটা দেরিতে হলেও আমরা সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুুত করেছিলাম এবং কিছু জমিতে ধান রোপনও করেছিলাম কিন্তু কয়েকদিনের টানা বর্ষনে ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সেই সব ধান এখন পানির নিচে। পানি নেমে গেলে আবার এই সব জমিতে নতুন করে ধান রোপন করতে হবে। এতে করে লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি বলে আমি আশঙ্কা করছি।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো: আহসান হাবীব বলেন, যে সব ধান এখন পানির নিচে সেই সব জমি থেকে পানি নেমে গেলে আবার ধান রোপন করতে হবে। তবে কিছু ধানের জাত আছে যেগুলো একটু দেরিতে রোপন করতে হয় সেই সব ধান যদি কৃষকরা পুনরায় রোপন করেন তাহলে এই লোকসানটা কৃষকরা কিছুটা হলেও পূরন করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর মানুষের কোন হাতে নেই। বর্তমান অবস্থায় করনীয় সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়ে আসছেন। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার ধান রোপন করলে তেমন একটা ক্ষতির মধ্যে কৃষকরা পড়বেন না। ধান রোপনে একটু দেরি হলেও ফলনের কোন তারতম্য হবে না।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই