তারিখ : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা,এলাকায় চাপা উত্তেজনা

ভালুকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা,এলাকায় চাপা উত্তেজনা
[ভালুকা ডট কম : ১৮ আগস্ট]
জাতির জনকের শাহদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের দিনে র‌্যালী করায় ভালুকা উপজেলায় ডাকাতিয়া ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগনেতাকর্তৃক দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেনা স্থানীয় স্বাধীনতাকামী পক্ষের লোকজন। ক’দিন যাবৎ বিষয়টি নিয়ে এলাকার নতুন প্রজন্মের মাঝে চাপা উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়াও শোক দিবসের দিন তাদের ইউনিয়ন পরিষদে কালো বা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি বা কোন কর্মসূচিও না নেওয়ায় স্থানীয় সহ ইউপি সদস্যদের মাঝে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ।

সংশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট জাতির জনকের শাহাদৎ বার্ষিকীতে শোক র‌্যালী নিয়ে প্রতিষ্ঠান চত্বরের বাহিরে যাওয়ায় উপজেলার ডাকাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক মনির নেতৃতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ডাকাতিয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয় ও একই এলাকার আল কুদ্দুস দাখিল মাদরাসার অফিস কক্ষে। পরে শোক র‌্যালী থেকে প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একই সময় তারা ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

এদিকে ঘটনার পরদিন বৃহষ্পতিবার (১৬ আগস্ট) ক্লাশ বর্জন করে ‘বিদ্যালয়ে তালা কেন? জবাব চাই, জবাব চাই’ শ্লোগানে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ওই সময় তারা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের অপসারণ এবং ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক মনির বহিস্কার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এদিকে, বঙ্গবন্ধুর শোক দিবসের র‌্যালী করায় বিদ্যালয়ে তালা দেওয়া ঘটনাটি সহজে মেনে নিতে পরছেনা স্থানীয়রা। এনিয়ে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মনে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে ডাকাতিয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

ডাকাতিয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন,গত ১৫আগস্ট জাতির জনকের শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের দিন সকাল ৮টা থেকে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। অত:পর বঙ্গবন্ধুর উপর আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করে বেলা ১১টার দিকে আমরা শোক র‌্যালী নিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যাই। স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে বিদ্যালয়ে ফিরে গিয়ে দেখি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও ভালুকা থানার জাসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক,ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, ডাকাতিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক মনির নেতৃত্বে আমাদের বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে মানববন্ধও করেছে।

আল কুদ্দুস দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সানোয়ার হোসেন বলেন,গত ১৫আগস্ট আমরা নিজেদের মত করে আলোচনা সভা ও বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছি। পরে শোক র‌্যালী ও গণভোজে অংশ নিয়ে মাদরাসায় গিয়ে দেখি অফিস কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে।

ডাকাতিয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন,শোক র‌্যালী করা অন্যায় হলে বা শিক্ষকরা কোন ভুল অথবা অপরাধ করে থাকলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বা শিক্ষকদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। এখানে বাহিরের কোন লোকের হস্তক্ষেপ বা প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়া উচিত হয়নি। হয়তো কোন ব্যক্তি আক্রোশে বা কাউকে খুশি করার জন্যে ইউপি চেয়ারম্যান ওই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শেখ ফরিদ জানান, সেদিন স্থানীয় দু’টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচির অংশ হিসাবে জাতির জনকের শোক র‌্যালী করছিল। এই কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়া গর্হিত অপরাধ। এর বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত।

ডাকাতিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হুমায়ন আহমেদ হিমু বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা দেয়ার ঘটনার সঠিক বিচার না হয় তাহলে আমরা ডাকাতিয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষারর্থীরা একত্রিশ হয়ে বিক্ষোব সহ বিভিন্ন আন্দোলনে নামবো।

হিজলীপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বলেন, যারা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। ডাকাতিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আসাদুজ্জামান দুদু সহ একাধিক ইউপি মেম্বার জানান, শোক দিবসের দিন তাদের ইউনিয়ন পরিষদে কালো বা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি বা কোন কর্মসূচিও নেওয়া হয়নি।

উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান স্থানীয় প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান বলেন, পরে আমি শোনেছি দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়া হয়েছে। যারা এমন কাজ করতে পারে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক কি করে হয় তা আমার জানা নেই।তাছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকিতে কোন অনুষ্ঠান পালন করা হইনি এমনকি ১৫ই আগস্ট ঐ দিন জাতীয় পতাকা উত্তলন করা হইনি পরিষদে। 

ডাকাতিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক মনি বলেন,আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক। কারো সাথে আমার কোন বিরোধ বা মনোমালিন্য নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

সকল অভিযোগ অস্বীকার ডাকাতিয়া ইউপি চেয়াম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন,সে দিন ওই দুই প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবসের কোন অনুষ্ঠান হয়নি। প্রতিষ্ঠান দু’টি ছিল তালা বদ্ধ।#

 





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই