তারিখ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁর সুস্বাদু কুমড়া বড়ি চালান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে

নওগাঁর সুস্বাদু কুমড়া বড়ি চালান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব
[ভালুকা ডট কম : ০৮ অক্টোবর]
গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে রোদে চাটাইয়ের উপর শুকানো হচ্ছে মাসকালাইয়ের সুস্বাদু কুমড়া বড়ি। পরিবারের ছোট-বড় থেকে শুরু করে সবাইকে এই বড়ি তৈরি করতে দেখা যাবে। এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি মানুষই এই বড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। এটি তাদের পূর্ব পুরুষের ব্যবসা।

সবুজে ঘেরা গ্রামটি হচ্ছে নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার খট্টেশ্বর রাণীনগর। যে গ্রামটি কুমড়া বড়িরর গ্রাম হিসেবে বেশি পরিচিত। নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গ্রাম। এই গ্রামে তৈরি কুমড়া বড়ির বিশেষত হচ্ছে এই যে এখানে তৈরি করা কুমড়া বড়িরর স্বাদ অন্যান্য এলাকায় তৈরি করা বড়ির চেয়ে আলাদা ও ভিন্নধর্মী। তাই দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষরা এসে এই গ্রামের বড়ি পাইকারি নিয়ে যায়। এছাড়াও জেলা সদরের সুলতানপুর গ্রামেও এই কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয়।

বর্তমানে এই গ্রামের কুমড়া বড়িরর কারিগররা সুস্বাদু কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীত মৌসুমে এই বড়ির চাহিদা বেশি থাকায় এখন এই বড়ি তৈরির পল্লীতে বড়ি তৈরি নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। অর্ধেক রাত থেকে শুরু হয় এই বিখ্যাত বড়ি তৈরির কাজ। নিজ জেলার প্রয়োজন মিটিয়ে চালান হচ্ছে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে। একমাত্র এই গ্রামেই বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি করা হয় কুমড়া বড়িটি।

উপজেলার নিজস্ব একটি ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার হলো এই মাসকালাইয়ের কুমড়া বড়ি। এটি শীত মৌসুমের একটি বিশেষ খাবার। শীতের ৬মাসই মূলত এই বড়িটি তৈরি করা হয়ে থাকে। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। রয়েছে অধিক মানের পুষ্টি। বড়ি তৈরির সব উপকরণই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার পণ্য। তাই এই বড়িতে ভেজাল বলে কিছুই নেই। শীত মৌসুমে যে কোন তরকারিতে এই কুমড়া বড়ি যোগ করে আলাদা একটি স্বাদ। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র রাণীনগর উপজেলার ২টি ইউনিয়নের হাতে গোনা কয়েকটি গ্রামে শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ি তৈরি হয়ে আসছে।

রাণীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের খট্টেশ্বরগ্রামকে বলা হয় কুমড়া বড়ির গ্রাম। গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে এখানে-সেখানে চাটাইয়ের উপড়ে রোদ দিয়ে শুকানো হচ্ছে সাদা রঙ্গের মাসকালাইয়ের কুমড়া বড়ি। এই গ্রামের ২৫-৩০টি পরিবারের মানুষ পৈত্রিক ভাবেই তৈরি করে আসছে এই কুমড়া বড়ি। এই কটি বাড়ির কুমড়া বড়ি তৈরির কারিগররাই আজো ধরে রেখেছে ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ির শিল্পটি। তবে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ অনেকটাই কমে গেছে বলে জানান কারিগররা ।

এই গ্রামের কারিগর আবুল হোসেন, রহিম শেখসহ আরো অনেকেই বলেন, বড়ি মূলত মাসকালাই, চাল কুমড়া, জিরা, কালোজিরা, মোহরী দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি বড়ি ২৫০-৩০০ টাকা (বড় আকারের) এবং ১০০-১৫০টাকা (ছোট আকারের) করে খুচরা-পাইকারি বিক্রয় করা হয়। নিজ এলাকার প্রয়োজন মিটিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রংপুর, দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বড়িগুলো সরবরাহ করা হয়।

খট্টেশ্বর গ্রামের অনেকেই জানান, সারা দেশেই এই গ্রামের কুমড়া বড়ির সুনাম রয়েছে। অনেক দুর-দুরান্তের মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা এসে এই গ্রামের কুমড়া বড়ি নিয়ে যায়। তবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত নিন্ম আয়ের মানুষরা সরকারি ভাবে কোন সহযোগিতা পায় না। সরকার ইচ্ছে করলে এই সুস্বাদু বড়ি বিদেশেও রপ্তানি করতে পারে। এতে করে এই শিল্পটি আরো প্রসারিত হতো।

জেলা সদরের সুলতানপুর গ্রামের আক্কাস আলী শেখ, রহিম আকন্দসহ আরো অনেকেই বলেন আমরা কোন মতে বাপ-দাদার এই পেশাকে ধরে রেখেছি। দিন যতই যাচ্ছে ততই উপকরনগুলোর দাম বাড়ছে। কিন্তু আমাদের পুজি সীমিত আকারের হওয়ায় এই ব্যবসাকে বড় আকারের করা যাচ্ছে না। কারণ আমরা সবাই দিন আনি দিন খাই গোত্রের মানুষ। যদি সরকারী কোন পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা সুদমুক্ত ঋণ পাওয়া যেতো তাহলে আমরা এই ব্যবসাকে আরো বড় পরিসরে বিস্তার করতে পারতাম। সরকার যদি এই সুস্বাদু পন্যটিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতো তাহলে সরকার একদিকে লাভবান হতো অপরদিকে আমরাও লাভবান হতাম।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

লাইফস্টাইল বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই