তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

কালিয়াকৈরে আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা সমাবেশে -প্রধানমন্ত্রী

আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সকলকে কঠোর পরিশ্রম  করতে হবে
কালিয়াকৈরে আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা সমাবেশে -প্রধানমন্ত্রী
[ভালুকা ডট কম : ১২ ফেব্রুয়ারী]
আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সকলকে কঠোর পরিশ্রম ও সততার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। দেশের সর্ববৃহত বাহিনী হিসেবে আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা,সাহস ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবেন। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পুর্বশর্ত হল শান্তিপুর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ। আপনারা এ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপুর্ণ অংশীদার। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই। তাই আসুন আমরা সন্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৯তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণেএসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের মাসে শুরুতেই আমি ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এ বাহিনীর গর্বিত সদস্য আনসার কমান্ডার আব্দুল জব্বার ১৯৫২ সালের ২১-এ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য আত্মাহুতি দেন। আমিতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ভাষা আন্দোলনের পথিকৃত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে । যার নেতৃত্বে পেয়েছি আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার নেতার প্রতি। স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০লাখ শহীদ ও ২লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আনসার বাহিনীর ৬৭০জন সদস্য শহীদ হন। আমি আনসার বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এ বাহিনীর ১২জন বীর সদস্য ১৯৭১ সালের ১৭এপ্রিল মেহেপেুরের আম্রকাননে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার প্রধানকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা এ বাহিনীকে একটি শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। সময়ের পরিক্রমায় আনসার এবং ভিডিপি বাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ব বৃহৎ জনসম্পৃক্ত বাহিনী। এ বাহিনীর প্রায় ৫৫হাজার পুরুষ এবং মহিলা আনসার সদস্য সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনায় জনসম্পদ রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অন্যদিকে ২টি পুর্নাঙ্গ মহিলা ব্যাটালিয়নসহ ৪১টিব্যাটালিয়নের প্রায় ১৭হাজার সদস্য পার্বত্যাঞ্চল ও সমতলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিশেষ ভাবে প্রশিকিক্ষিত স্ট্রাইকিং ফোর্স ‘এএসএফ‘ দেশের অভ্যন্তরে কূটনৈতিক ও কুটনৈতিক জোনের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিতএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোট কেন্দ্রে প্রায় ৫লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্যগণ জীবনের ঝুকি নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে ভোট কেন্দ্র ও ভাটারদের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময় ৫জন আনসার সদস্য জীবন দিয়েছেন। আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাঘফিরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আজকের সমাবেশ অনুষ্ঠানে তাঁদের ‘মরনোত্তর সাহসিকতা’ পদক দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ বাহিনীর সদস্যগণ খেলাধুলা ও দেশীয়চর্চার মাধ্যমে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। জাতীয় সঙ্কটকালে এবং জরুরী মূহুর্তে আপনারা কর্মদক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। প্রতিবছর দেশের জাতীয় সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন উৎসবে ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যগণ আইন শৃঙ্খলা ও জন নিরাপত্তা রক্ষা, জঙ্গীবাদ এবং মাদক প্রতিরোধে আন্তরিক ভাবে কাজ করছেন। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে এবং তা অব্যাহত আছে। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: আনসার বাহিনীকে ১৯৯৮ সালে সর্বোচ্চ সম্মান জাতীয় পতাকা প্রদান। বিসিএস কর্মকর্তাগণের পদের মনোন্নয়ন। ৬৭২ জন মহিলা আনসারের পদ স্থায়ীকরণ এবং তাঁদের চাকুরি কাল শতভাগ গণনা নির্দেশ নাজারী। উল্লেখযোগ্য সংখ্যকতয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ। কক্সবাজারে সম্পুর্ণ নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠন। ২টি গার্ড ব্যাটালিয়ন গঠনের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঐতিহাসিক মুজিবনগরের নিরাপত্তা রক্ষায় ১টি ব্যাটায়িন গঠন করা হবে। ‘সেবা’ ও ‘সাহসিকতা’ পদক প্রদর্তন। আনসার সদস্যদের ঝুঁকি ভাতাবৃদ্ধি। ১৫টি মডেল আনসার ব্যাটালিয়ন সদও দপ্তর নির্মাণ। ১১হাজার ৬৬জন উপজেলা আনসার কোম্পানী কমান্ডার এবং ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডারের মাসিক ভাতা অনুমোদন। জন নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। আপনাদের যে কোনসমস্যা সমাধানে আমাদের সরকার সব সময় আন্তরিক এবং সহানুভূতিশীল ।

প্রধামমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল। জাতিসংঘ মানদন্ডে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশে হিসেবে স্বীকৃত। মাথা পিছু আয় ১হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলাওে উন্নীত হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিও হার ৭.৮৬/এ উন্নীত। মাত্র ১০বছরে শিক্ষারহার ৪৫ থেকে ৭৩শতাংশে পৌঁছেছে। দারিদ্রের হার ২১.৮শতাংশে নেমে এসছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০হাজার ৮০০ মেঘা ওয়াটে উন্নীত। ঘওে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাচ্ছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-স্যাটালাইট/১ উৎক্ষেপন করা হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল নির্মাণ, কর্ণফুলিটানেল স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়া নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভূতপুর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। পুরুষ ও নারীসমতার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থা বিশ্বে ৪৭তম এবং ৩বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। গত ১০ বছওে আমাদের সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমাদের লক্ষ হচ্ছে দেশকে দারিদ্রের অভিশাপ হতে মুক্ত করা।

এ লক্ষ্যে জনগণের সঞ্চয় ভাড়ানোর বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। জনগণ যাতে সঞ্চয় ভাড়াতে পারে সে লক্ষ্যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এখন আমার বাড়ি আমার খামারে এ রুপান্তরিত হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োজিত সদস্যদের আর্থ/সামাজিক উন্নয়নের জন্য আনসার /ভিডিপি ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যাংক থেকে সদস্যগণ স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন আয় /বর্ধনমূলক কাজে নিয়োজিত হতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী সকাল পোনে এগারটায় সুসজ্জিত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে সেখানে স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এমপি, আনসার ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ এনডিসি, পিএসসি, জি অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদেও মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীআকম মোজাম্মেল হক এমপি, গাজীপুর মহানগরের মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর জেলা প্রসাশক ডঃ দেওয়ান মোঃ হুমায়ুন কবীর, জিএমপি কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, গাজীপুর পুলিশ সুপার শামছুুন্নাহার প্রমূখ।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষনের আগে একটি খোলা জীপে কওে মাঠ পরিদর্শন করেন এবং আনুষ্ঠানিক সুসজ্জিত কুজাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন। এসময় ৬শতাধিক আনসার সদস্যেও উপাস্থাপনায় মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতা ও কৃতিত্বপুর্র্ণ অবদানের জন্য আনসার সদস্যদের পদক প্রদান করেন। ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাডেমির পানির লেকের ওপর স্থাপিত সুশোভিত মঞ্চ সরোবরে বসে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৫৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই