তারিখ : ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

শার্শা-বেনাপোলে ৮২ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

শার্শা-বেনাপোলে ৮২ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই
[ভালুকা ডট কম : ১৬ ফেব্রুয়ারী]
বাঙালি জাতির গর্ব ও অহংকারের দিন একুশে ফেব্রুয়ারী। আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস পালনে ও ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে যশোরের শার্শায় ও বেনাপোলে ৮২ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নেই শুরু থেকে। অথচ সরকারি ভাবে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একুশে ফেব্রুয়ারী উদযাপন করার নির্দেশ থাকলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাষা আন্দোলনের ৬৭ বছরেও যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পোর্ট থানার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। বিশেষ করে উপজেলা ও পোর্ট থানার ৩৩টি মাদরাসার একটিতেও শহীদ মিনার নেই। তাছাড়া প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়েও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। ফলে ওই সব প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন হয় না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ আছে।

এ সব স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটিতে সমাজের নামীদামী ব্যক্তিরা শীর্ষ পদে থাকলেও দীর্ঘদিনেও শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারেনি। অথচ তারা অন্য খাতে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে থাকেন। পরিচালনা কমিটির সদস্যরা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো অনুদান তো দেন না উপরন্তু টাকা নিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ও বরণে। ফলে নানা ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে ভাষাপ্রেমী মানুষের মধ্যে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা ও বেনাপোলে ২৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১২৬ টি প্রাথমিক ও প্রি-ক্যাডেট এবং কমিউনিটি মিলিয়ে আরো রয়েছে ৫৪টি। এদের মধ্যে শহীদ মিনার আছে মাত্র ১৮ টিতে। ৩৮ টি হাইস্কুলের মধ্যে ২৬টিতে শহীদ মিনার আছে। ১২ টি কলেজের মধ্যে মাত্র ৩ টিতে শহীদ মিনার আছে। ৩৩ টি মাদরাসার মধ্যে একটিতেও কোনো শহীদ মিনার নেই। তবে সব মিলিয়ে অর্ধ-শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়।

অভিযোগ আছে, মাদ্রাসা গুলোতে দিবসটি পালন করা হয় না। কোনো কোনো মাদরাসায় নামমাত্র মিলাদ মাহফিল ও পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনসহ ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার মানুষ।

উপজেলার নাভারণ বুরুজবাগান ফাজিল মাদরাসার সুপার এ কিউ এম ইসমাইল হোসাইন জানান, মাদরাসাটি ১৯৬৫ সালে নির্মিত হলেও অদ্যবধি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

একই দাবি করেন উপজেলার লক্ষণপুরের রহিমপুর আলিম মাদরাসার সুপার মাওলানা শহিদুল্যাহ। মাদরাসায় শহীদ মিনার না থাকলেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। ধান্যখোলা ডি এস সিনিয়র মাদরাসার সুপার মাওলানা আনোয়ার হোসেন জানান, অনেক মাদরাসা মানুষের দানে চলে। তাছাড়া জায়গা সংকট রয়েছে। এ কারণে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব না মাদরাসার পক্ষে। তারপরও আমরা তো (মাদরাসাতে) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে দোয়া অনুষ্ঠান করি।

নাভারণ ফজিলাতুনন্নেছা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী শারমীন নাহার জানান, আমাদের কলেজে শহীদ মিনার না থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বুরুজবাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হয়। অথচ আমাদের কলেজের পরিচালনা পরিষদে নামী দামী ব্যক্তিরা রয়েছে। তারা ইচ্ছা করলেই ৭ দিনের মধ্যে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিতে পারেন।

বেনাপোল সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইজ্জত আলী বলেন, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছিল যাদের স্মরণে আজও শার্শা উপজেলায় ৮২ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার গড়ে না ওঠায় শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা ও স্মরণ করতে পারে না।=একই কথা বলেন, বেনাপোলের সিনিয়র মাদরাসার সুপার মো. ইলিয়াস হুসাইন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারী ভাষার জন্যে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করতে পারেন না অনেকে। মাদরাসাগুলোতে গড়ে ওঠেনি কোনো শহীদ মিনার। এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

নাভারণ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল জানান, আমাদের কলেজের পাশেই হাইস্কুলের শহীদ মিনার থাকায় এখানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যকতা থাকলেও শার্শা-বেনাপোলের অনেক প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। উপজেলার ১২ টি কলেজ, ৩৮ টি হাইস্কুল, ৩৩ টি মাদরাসা ও অসংখ্য কিন্ডারগার্ডেন এর মধ্যে মাত্র ২৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। কিন্তু ৩৩টি মাদরাসার একটিতেও শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে পত্র দেওয়ার পরও তারা শহীদ মিনার নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তৃণমূল পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে বা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ভালবাসা জানাতে সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা প্রয়োজন। শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারের পাশাপাশি বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব বলেন, ১২৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রি- ক্যাডেট এবং কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫৪ টি। ১৮০টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬২ টিতে কোনো শহীদ মিনার নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ দরকার বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।সরকারের কাছে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে একটি পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল, মাদরাসা ও কলেজে শহীদ মিনার না থাকার কথা স্বীকার করে জানান, উপজেলার প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা উচিত। শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। এটা বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ স্থানীয়ভাবে নির্মাণ করতে পারে। তবে উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় মাদরাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বিষয়টি উত্থাপন করা যেতে পারে। পাশাপাশি সরকারি বেসরকারিভাবে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য শহীদ মিনার নির্মাণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই