তারিখ : ৩০ মে ২০২০, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

আজ বিশ্ব মা দিবস

আজ বিশ্ব মা দিবস
[ভালুকা ডট কম : ১০ মে]
সবচেয়ে পবিত্র ও মধুর শব্দের নাম ‘মা'। মায়ের ভালোবাসা পেতে প্রয়োজন হয় না ভালোবাসি বলা। সুখে-দুঃখে প্রতিটি সময় মায়া স্নেহ ভালোবাসায় যিনি জড়িয়ে রাখেন, তিনিই মা'। মায়া-মমতার খনি যাকে বলা হয় তিনি হলেন মা। একজন সন্তান জন্মের পর থেকে আমৃত্যু যার ছায়ার পরশে জীবনকে বেঁধে রাখেন তিনি হলেন মা। মায়ের সমার্থক শব্দ গুনে শেষ করা যাবে না। কিন্তু ‘মা’ এর চেয়ে মধুর ডাক পৃথিবীতে আর কিছু নেই।

এমনকী মনীষীরাও বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দের নাম- মা।বিশ্ব মা দিবস আজ। মা দিবসের উদ্দেশ্য হলো— সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে, মা ছাড়া এই পৃথিবীতে আপন নিবাসের ঠিকানা খুবই কম। মায়েদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই এই দিবস।

কবির ভাষায়— ‘মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে, মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে’। মাকে কার না মনে পড়ে? যার আছে সেও মনে করে, আবার যার নেই সেও মাকে মনে করে। মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কটাই এমন। ‘মা’ কেবল একটি শব্দে মায়া, মমতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং ত্যাগের অনন্য নজিরের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পৃথিবীর প্রতিটি সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়স্থল মা। মায়ের সারাজীবনের শ্রমের মূল্য কোনও কিছুর বিনিময়ে কখনও শোধ করা যায় না। মায়ের জন্য বিশেষ দিন থাকার দরকার আছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু একটি বিশেষ দিনে মাকে না হয় একটু বেশিই ভালোবাসা যায়।

কবি আরও বলেন—
“যেখানেতে দেখি যাহা,
মা-এর মতন আহা
একটি কথায় এত সুধা মেশা নাই,
মায়ের মতন এত
আদর সোহাগ সে তো
আর কোনখানে কেহ পাইবে ভাই!”

জন্মদাত্রী মা, যার কল্যাণে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখা হয় সন্তানের। সেই মায়ের স্মরণে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্ব মা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। যদিও মাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধা জানানোর কোন দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না- তবুও মাকে গভীর মমতায় স্মরণ করার দিন আজ।

প্রাচীন গ্রিসে বিশ্ব মা দিবসের পালন করা হলেও আধুনিককালে এর প্রবর্তন করেন এক মার্কিন নারী। ১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামের নারী মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা' দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

তবে মা' দিবসের প্রবক্তা আনা জার্ভিস দিবসটির বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধিতা করে আসছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন,মাকে কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মানে নিজ হাতে তার জন্য দুই কলম লেখার সময় না হওয়া। চকলেট উপহার দেয়ার অর্থ হলো- তা নিজেই খেয়ে ফেলা।এসব না করে এই দিনটিতে মায়ের জন্য এমন কিছু করতে অনুরোধ করেন তিনি যেন তা অর্থবহ হয়ে থাকে।

যদিও করোনার কারণে এবার দিবসটিতে কোন আনুষ্ঠানিকতা দেখা যাবেনা। তাই বলে ঘরে ঘরে মায়ের ভালবাসা কুড়াতে কার্পণ্য করবে না, কোন সুসন্তান।জগতে মায়ের মতো এমন আপনজন আর কে আছে! তাই প্রতি বছর এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় প্রিয় মায়ের মর্যাদার কথা।

কবি কামিনী রায় তার ‘কত ভালবাসি মা' কবিতায় মাকে বন্দনা করে লিখেছেন-
জড়ায়ে মায়ের গলা শিশু কহে আসি,-
মা, তোমারে কত ভালোবাসি!
‘কত ভালোবাস ধন?’ জননী শুধায়।
এ-ত বলি দুই হাত প্রসারিত দেখায়।
তুমি মা আমারে ভালোবাস কতখানি?
মা বলেন ‘মাপ তার আমি নাহি জানি।’
‘তবু কতখানি, বল।’
‘যতখানি ধরে
তোমার মায়ের বুকে।’

আসলে ‘মা’ পৃথিবীর বিশুদ্ধতম শব্দ। আর বিশুদ্ধতম ভালোবাসা, মায়ের ভালোবাসা।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

নারী ও শিশু বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৬০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই