তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত

ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত
[ভালুকা ডট কম : ০৫ এপ্রিল]
নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ৫২’র জীবন্ত কিংবদন্তী ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম এর ৮২তম জন্মবার্ষিকী তাঁর শ্যামলীস্থ রজনীগন্ধা বাসভবনে পালিত হলো। জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রথমেই তাকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এছাড়াও অন্যন্যা স্যোসাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান খোকন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদের মহাসচিব আর.কে রিপন ও বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ও জাতীয় সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান পাঠান আজহার উদ্দীন প্রিন্স, ২১ শে সাংস্কৃতিক পরিষদের মহাসচিব মোঃ রাসেল ভাষা সৈনিক রেজাউল করিমকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও ভাষা সৈনিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এছাড়াও সকলের উপস্থিতিতে ভাষা সৈনিক কেক কেটে তার জন্মদিন পালন করেন।

এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেখতে দেখতে ৮১ বছর শেষ করে ৮২ বছরে পা রাখলাম। আমার স্ত্রী ১৯৯৭ সালে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, তারপর আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমার এই দীর্ঘ পথ চলা। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই আনন্দবোধ করি। যে কটা দিন বেঁচে আছি, মানুষের জন্য কিছু করতে পারি আপনারা সেই দোয়াই করবেন।

এ সময় জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখেছেন তারা কেউ বীরশ্রেষ্ঠ, বীর বিক্রম, বীর উত্তম, বীর প্রতীক উপাধি পেয়েছে। তাঁদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাদের সমাধি করা হয়। অথচ যারা মায়ের ভাষা বাংলার জন্য জীবন উৎসর্গ করলেন, রাজপথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলেন, তাদেরকে আমরা কোন মর্যাদা দিতে পারিনি। তাদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা দিতে ব্যর্থ রাষ্ট্র কেন এ প্রশ্ন বার বার আমার হৃদয়ে জেগে উঠে।

তিনি আরো বলেন, ভাষা সৈনিকদেরকে যদি আমরা তাঁদের যথাযথ মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়, আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। আগামী ২০ বছর পর ইচ্ছা করলেও আমরা কোন ভাষা সৈনিকদের এভাবে সম্মান দিতে পারবো না। বয়স ও সময়ের কারণে তাঁদের অধিকাংশই না ফেরার দেশে চলে যাবেন। আগামী ৫০ বছর পর সারা বাংলাদেশ খুঁজে একজনও ভাষা সৈনিকদের খুঁজে বের করতে পারবো না। তাহলে তাদের জীবদ্দশায় কেন আমরা তাদেরকে সম্মান দিতে ব্যর্থ হচ্ছি? তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান, অবিলম্বে সকল ভাষা সৈনিকদের তালিকা করে তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করতে হবে।

৫২’র জীবন্ত কিংবদন্তী ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম ১৯৩৭ সালের ৪ এপ্রিল বগুড়া জেলাধীন সারিয়াকান্দা থানার নারচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. মোজাহেদ উদ্দিন তরফদার এবং মাতার নাম আকলিমা খাতুন। ১৯৫২ সালে ওয়েস্ট এ্যান্ড হাইস্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি একুশের আন্দোলনের সাথে জড়িত হন এবং নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে বহুজাতিক কোম্পানী লিভার ব্রাদার্স (পাকিস্তান) লিঃ এ যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এর পূর্বে কিছুদিন তিনি এম.এম ইস্পাহানী লিঃ এ চাকুরীতে ছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তান কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রি সিআইপিতে কর্মরত থাকাকালে স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। অতঃপর ১৯৭৩ সালে বদলী বিসিআইসি’র অধীনে ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জ সারকারখানায় ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। অতঃপর ফেঞ্জুগঞ্জ সার কারখানার মহা ব্যবস্থাপকের পদ থেকে অবসর নেন ১৯৯৭ সালে। ১৯৬৫ সালে তিনি বেতার ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় নজরুল গীতি কন্ঠশিল্পী সেলিমা করিমের সঙ্গে প্রণয়ের সূত্রে আবদ্ধ হন। ১ ছেলে ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রয়েছে তার। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন তিনি। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাদার তেরেসা পদকসহ অসংখ্য পদক পেয়েছেন তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভাষাসৈনিকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে চলেছেন। জীবন্ত কিংবদন্তি ৫২ ভাষা সৈনিক, ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম-এর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সময়ের দাবী।

বার্তা প্রেরক,লেখক
আর.কে রিপন
মহাসচিব ,শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদ






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শুভ জন্মদিন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫২৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই