তারিখ : ২৩ জুন ২০১৮, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াই তৈরী হচ্ছে এসডি চক ফ্যাক্টরি

নওগাঁয় রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াই তৈরী হচ্ছে এসডি চক ফ্যাক্টরি
[ভালুকা ডট কম : ০১ জুন]
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শীবগঞ্জ গ্রামে লোকালয়ে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে এসডি চক ফ্যাক্টরি। কোন নিয়মকানুন ছাড়াই গড়ে উঠা এ ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন গ্রামের হতদরিদ্র নারীরা। বিষাক্ত এ ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকদের জন্য নেই কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা। ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে বিষাক্ত এ ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা খালি হাতে ও নাক-মুখে নিরাপত্তার কোন কাপড় (মাকস) না বেঁধেই কাজ করেন। অভিযোগ আছে অনুমোদনের আগেই প্রোডাক্টগুলো তৈরী করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত চার বছর আগে শীবগঞ্জ গ্রামে গড়ে উঠেছে এসডি চক ফ্যাক্টরি। ম্যাজিক আরশোলা মারার চক তৈরী দিয়ে ফ্যাক্টরির কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া সিরিয়াস চক, নিউ ম্যাজিক চক, ম্যাজিক চক, ওস্তাদ ইনসেক্ট চক, কারেন্ট স্পেশাল চক, ওস্তাদ ইদুর মারার আঠা, ওস্তাদ গাম, দ্বীন ম্যাগ প্লাস, দ্বীন এসওপি সালফেট অব পটাশ সহ কমপক্ষে ১০টি প্রোডাক্ট তৈরী করা হয়। যার বেশির ভাগই নেই রেজিষ্ট্রেশন। এছাড়া ফ্যাক্টরিতে প্রশিক্ষিত কোন কেমিস্টও নেই।

অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা ফ্যাক্টরিতে কোন জানালা নেই। ফলে ফ্যাক্টরির ভিতরে মাথা ধরা তীব্র বিষাক্ত গন্ধ। তীব্র গন্ধে যে কেউ মূর্হুতের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। আর সেখানে কাজ করেন গ্রামের ৩০ জন হতদরিদ্র নারী শ্রমিক। বিষাক্ত এ ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে খালি হাতে ও নাক-মুখে নিরাপত্তার কোন কাপড় (মাকস) না বেঁধেই কাজ করেন। কাজ করার সময় নারী শ্রমিকের শিশুরা এ ফ্যাক্টরিতে অনেক সময় আসা যাওয়া করেন। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে এসব শ্রমিকদের।

ফ্যাক্টরিটি নিয়নতান্ত্রিক ভাবে গড়ে না উঠা এবং অনুমোদনহীন প্রোডাক্ট তৈরী করার অভিযোগ সম্প্রতি সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হাবিবুল হাসান।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক বলেন, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। এতে পারিশ্রমিক পান ১৫০ টাকা। বিষাক্ত এ গন্ধে ভবিষ্যতে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তবে সেটা এখন ভেবে কি হবে। এখনকার চিন্তা এখন করতে হবে। পেটতো বাঁচাতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক আলহাজ্ব তাহার হোসেন মিয়ার ছেলে হুসাইন মোহাম্মদ শাহিন বলেন, রেজিষ্ট্রেশনের প্রক্রিয়া চলছে। কিছু প্রোডাক্ট উৎপাদন করা হয়েছে। সেগুলো কিছু দিনের মধ্যে বাজারজাত করা হবে। এছাড়া শ্রমিকরা নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোন ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা না। আর এখন পর্যন্ত কোন দূর্ঘটনা ঘটেনি।

মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, এসডি চক ফ্যাক্টরিতে কেমিস্ট বিহীন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিষাক্ত চক পাউডার, তেলাপোকা মারার চক, ইঁদুর মারার বিষটোপ সহ অনুমোদনহীন পেস্টিসাইড তৈরী করা হচ্ছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, কিছু প্রোডাক্টের লাইন্সেস নেই। যেহেতু সেখানে বির্ষাক্ত প্রোডাক্ট তৈরী করা। এছাড়া বদ্ধ ঘর, কোন জানালা নাই। কোম্পানি গড়ে উঠার যে নিয়ম সেখানে তা পাওয়া যায়নি। প্রথমত সর্তক হওয়ার জন্য পরামর্শ এবং কাগজপত্র ঠিক করার জন্য এক মাসের সময় দেয়া হয়েছে। কোম্পানির ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।#






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ২০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই