তারিখ : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সাপাহারে মালিকানা সম্পত্তি হিন্দু সম্প্রদায়ের দখলের চেষ্টা

সাপাহারে মালিকানা সম্পত্তি হিন্দু সম্প্রদায়ের দখলের চেষ্টা
[ভালুকা ডট কম : ২৩ জুন]
নওগাঁর সাপাহারে ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গ্রামের হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা মৃত- আকালু বর্মনের পুত্র মনমথ বর্মন দীর্ঘদিন থেকেই  কোচকুড়লিয়া মৌজার ৭৪ শতক সম্পত্তি দেবত্তরের দাবী করে আসছেন এবং দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ওই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকেই আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, ওই গ্রামের নগেন্দ্র নাথ সমজদার দিং গণের কাছ থেকে ৭৪ শতক জমি দীর্ঘদিন আগে ক্রয় করেন হক্কে নেওয়াজের মা অহিরন বেওয়া। অহিরন বেওয়া মারা যাবার পর তার পুত্র হক্কে নেওয়াজসহ ওয়ারিশগণ উক্ত সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছেন।

গত ২১ জুন দেবত্তরের সম্পতি দাবী করা মনমথ বর্মন সাপাহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ্য করেন,বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত দেবত্তরের একটি ছোট পুকুর সহ ৭৪ শতক সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে হক্কে নেওয়াজ দিং গণ জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তারই জের ধরে তারা ওইদিন সকালে কোচকুড়লিয়া মৌজার ৩৩৮ নং খতিয়ানের ১৫৬৯ ও ১৫৭০ নং দাগে অবৈধভাবে প্রবেশ করে গাছে থাকা আম গাছের ডাল পালা কর্তন এবং পুকুর থেকে প্রায় ২ মন মাছ চুরি করে এবং সেখানে থাকা একটি হিন্দু সম্প্রদায়ের পুজা উদযাপন পরিষদের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে অনুমান ৩৩ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের বাধা দিতে গেলে তারা তাদের খুন জখমের হুমকী প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়।

এসংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে উক্ত সম্পত্তির উপরে থাকা কোন গাছের ডাল পালা কর্তন, আম পাড়া কিংবা পুকুর থেকে মাছ ধরার কোন আলামত চোখে পড়েনী। আশে পাশের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

হক্কে নেওয়াজ দাবী করেন, উক্ত সম্পত্তির বিষয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের কোন কাগজপত্র নেই এবং শালিশে তারা কোন প্রমানাদি দেখাতে পারেনি। ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে ইতিপূর্বে তারাই আমাদের সম্পত্তি জবর দখল করতে গিয়ে সম্পত্তির উপর ঝামেলা বাধায় এবং গত ২০১৪ সালে উক্ত সম্পত্তির উপর মামলা দায়ের করা হয় যা এখনও আদালতে বিচারাধীন।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও বুধবার রাতে আদালতের নির্দেশ কে উপেক্ষা করে মনমথ বর্মনের নের্তৃত্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন রাতের অন্ধকারে বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে গোপন ভাবে ওই সম্পত্তির উপর একটি সাইনবোর্ড টাঙ্গায়। সকালে বেলায় আমাদের লোকজন সেই সাইনবোর্ডটি তুলে ফেলে। সেখানে আম পাড়া, আম গাছের ডাল কাটা কিংবা মাছ ধরার মত কোন ঘটনাই ঘটেনি। মনমথ বর্মন ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় থানায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাপাহার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে মনমথ বর্মনের সাথে কথা হলে তিনি পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ফোন কেটে দেয়। পরবর্তীতে একাধিকবার এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তার ব্যবহত ফোনে কল করা হলে তিনি রহস্যজনক ভাবে বিষয়ে আবারো এড়িয়ে যান।সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই