তারিখ : ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় হাইকোটের আদেশ অমান্য করে নিকাহ রেজিষ্ট্রার

নওগাঁয় হাইকোটের আদেশ অমান্য করে কথিত কাজী অবৈধ ভাবে চালিয়ে আসছেন নিকাহ রেজিষ্ট্রারের কাজ
[ভালুকা ডট কম : ২১ জানুয়ারী]
নওগাঁর রাণীনগরে কথিত কাজী বেলাল হাইকোটের আদেশ অমান্য করে অবৈধ ভাবে চালিয়ে আসছেন নিকাহ রেজিষ্ট্রারের কাজ। উপজেলার গহেলাপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো: বেলাল হোসেন। এক সময়ের বেলাল হোসেনের সংসার চালানোই যেখানে কষ্ট্যসাধ্য ছিলো এখন একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সেই বেলাল হোসেন ওরফে ভুয়া কাজী বেলাল পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা ও শাহেনশাহী জীবন-যাপনের অধিকারী। তার আয়ের উৎস কোথায় এই প্রশ্ন স্থানীয়দের।

সূত্রে জানা, বেলাল হোসেন নিজেকে কাজী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিনিয়তই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। বাল্য বিয়ে থেকে শুরু করে কোন কাগজপত্র ছাড়াই বিয়ে হয় এই কাজী বেলালের কাছে তা এলাকার সবার জানা। জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স না হলেও এবং পরিচয়পত্র না থাকলেও মোটা অংকের বিনিময়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রারের কাজ হয় বেলালের কাছে। কাজী বেলাল উপজেলার ২নং কাশিমপুর ইউনিয়নে সরকারি তালিকাভুক্ত কাজী বর্তমান থাকলেও তিনি পেশীবলের জোরে সম্পন্ন অবৈধ ভাবে লুকোচুরি করে কোন বৈধতা ছাড়াই কাজী বেলাল দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নকল কাগজপত্রাদি দিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রারের কাজ করে আসছে বহাল তবিয়তে। এমনকি তার কাজকর্ম বৈধ নয় এই মর্মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোটের আপিল বিভাগ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে বেলাল এই অবৈধ কাজ করে আসছে। আর নষ্ট করছে এলাকার শত শত ছেলে ও মেয়ের জীবন। অপরদিকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে করা একাধিক মামলার সাজাভুক্ত আসামী হলেও রাণীনগর থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারণে এই প্রভাবশালী বেলালকে আটক করছে না বরং বিভিন্ন সময়ে থানায় এসে ভুরিভোজে অংশ নিতে দেখা গেছে এই বেলালকে। পুলিশের এমন রহস্যজনক ভ’মিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সূত্রে আরো জানা, কাজী বেলালের অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গত ২০১১সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোটের হাই কোট বিভাগে কাশিমপুর ইউনিয়নের সরকারি তালিকাভুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা মোজাফ্ফর হোসেন মামলা করেন এবং হাইকোট থেকে একটি রুল জারি করা হয়। রুলের জবাব না দিলে হাইকোট গত ২০১৪সালে ৪নং অনুচ্ছেদে কাজী মো: বেলাল হোসেন, নিকাহ রেজিস্ট্রার ২নং কাশিমপুর ইউনিয়ন রাণীনগর উপজেলা, জেলা-নওগাঁকে মহামান্য হাইকোট বিভাগের রিটপিটিশন নং ১০২৩৯/১১ এর নির্দেশনার আলোকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে নিকাহ রেজিস্ট্রারের সমস্থ কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য বলা হলো মর্মে ৭৩২ (৭) নম্বরের স্মারকের আদেশনামা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করে। মামলা নিষ্পত্তি না হলেও বেলাল কাজী মহামান্য হাইকোটের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো পর্যন্ত তার অবৈধ কর্মকান্ড বহাল তবিয়তে চালিয়ে আসছেন।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রাণীনগর থানায় বাংলা ভাই কর্তৃক আলোচিত উপজেলার সিম্বা গ্রামের খেজুর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২০০৪ সালে মামলা দায়ের করা হয় যার নং-সিআরডব্লিউ-২১/২০০৪ যে মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আদালতের নতিপত্র, সরকারি রেজি: জালিয়াতি করা, মূল্যবান জামানত উইল/ইত্যাদি জাল করা, প্রতারনাসহ কয়েকটি বিষয়ে রাণীনগর থানায় এফআইআর নং-০৬ফেব্রু,২০০৫; জিআর নং-১২/০৫, তারিখ-২২ ফেব্রু, ২০০৫; সময়-ধারা-৪৬৬/৪৬৭/৪৭১/৪২০/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০; এই মামলায় কাজী বেলাল এজাহারে অভিযুক্ত হলেও থানা পুলিশ তাকে আটক করছে না। কাজী বেলাল এখনো বহাল তবিয়তে রাণীনগরে প্রকাশ্যে চলাফেরা ও তার অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করলেও প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে তাকে আইনের আওতায় আনতে পারছে না।

২নং কাশিমপুর ইউপির সরকারি তালিকা ভুক্ত কাজী মাওলানা মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আমি গত ২০০২ সাল থেকে সরকারি ভাবে নিয়োগ নিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাজ করে আসছি। হাইকোট তদন্ত সাপেক্ষে বেলালের রিট খারিজ করে তার সমস্ত কর্মকান্ডকে অবৈধ ঘোষনা করে বন্ধ রাখার পিটিশন দেয়। কিন্তু বেলাল মহামান্য হাইকোটকে অমান্য করে বহাল তবিয়তে প্রভাবশালী ছত্রছাঁয়ায় আজও তার অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে আর প্রতারনা করে অবৈধ ভাবে আয় করছে লাখ লাখ টাকা। উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের সকল প্রকারের অবৈধ নিকাহের কাজ করে আসছে এই বেলাল। শুধু অবৈধ কর্মকান্ডই নয় একাধিক মামলার এজারভুক্ত আসামী হলেও অজ্ঞাত কারণে বেলালকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারছেন না পুলিশ প্রশাসন। তাই আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বেলালের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি।

কাজী বেলাল মুঠোফোনে জানান তার বিরুদ্ধে হাইকোটে করা মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটির এখনো কোন রায় প্রদান করা হয় নাই। তাহলে হাইকোটের পিটিশনকে অমান্য করে কার অনুমতিতে তিনি এখনো নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাজ করে আসছেন এমন প্রশ্ন করলে কাজী বেলাল বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং তিনি কোন মামলার এজারভুক্ত আসামী তা কাজী বেলালের জানা নেই বলে তিনি মুঠোফোনে জানান।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন আমার থানায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ বিবাহ সম্পন্ন করার অভিযোগের একটি মামলা ছিলো তা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরো কোন মামলা আছে কিনা তা আমার জানা নেই। যদি আমার থানায় তার বিরুদ্ধে আর কোন মামলা থেকে থাকে তাহলে সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জেলা রেজিস্ট্রার সৈয়দ মজিবর রহমান বলেন আমার কাউকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নেই। শাস্তি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে শুধুমাত্র মন্ত্রনালয়। কাজী বেলালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন মন্ত্রনালয় বরাবর পাঠিয়ে দিবো। পরর্বতি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৮৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই