তারিখ : ০৭ জুন ২০২০, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

লকডাউনের মধ্যে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বেড়েছে

লকডাউনের মধ্যে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বেড়েছে,জরিপ
[ভালুকা ডট কম : ০৯ মে]
দেশের করোনা মহামারীতে লকডাউনের মধ্যে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বেড়েছে। সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ (এমজেএফ) পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।ফাউন্ডেশনের দুটি প্রকল্পের আওতায় ২৪টি সহযোগী সংগঠনের সহযোগিতায় দেশের ২৭টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ৬০২টি গ্রাম ও চারটি সিটি কর্পোরেশনের ১৭ হাজার নারীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার মাধ্যমে এ জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে চার হাজারের বেশী নারী নিজের ঘরে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অন্তত: ৪,২৪৯ জন নারী যৌন নির্যাতন, মারধর, ও আবমানাকর আচরণে শিকার হয়েছেন নিজেদের ঘরেই। এদের মধ্যে ১,৬৭২ জন নারী জানিয়েছেন, তারা প্রথমবারের মতো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এই লকডাউনের সময় ঘরে আবদ্ধ থাকা অবস্থায়।এ সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪ জন নারী; হত্যা করা হয়েছে একজনকে এবং যৌন হয়রানি করা হয়েছে ২০ জন নারীকে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময় নিজ গৃহে স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ জন নারী, মানষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২০০৮ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৫ জন আর অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১,৩০৮ জন।গৃহ সহিংসতার শিকার এ সকল নারী করোনা পরিস্থিতির কারণে আইনগত সহায়তা পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে নারী সংহতি আন্দোলনের সভাপতি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক শ্যামলী শীল বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা আগেও ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এ সময় মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র শ্রেণির পরিবারগুলি দারুণ একটা অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের সবাই ঘরে অবস্থানের কারণে নারীদের জন্য গৃহস্থালি কাজের চাপ বেড়েছে। খণ্ডকালীন গৃহকর্মীও অনুপস্থিত।

এ অবস্থায় কর্মজীবী মায়েদের অনেককে ঘরে বসে অফিসের কাজ করতে হচ্ছে; বাচ্চাদের পড়াশোনা সামলাতে হচ্ছে। তারপর ঘরের পুরুষ স্বামী বা বাড়ন্ত বয়সের ছেলে-মেয়েদের ঘরের থেকে এটা না ওটা খাবরের বায়না। বাড়তি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দায়টাও পড়েছে সংসারের নারী সদস্যের ওপর। আর টানাটানির সংসারে কর্তা ব্যক্তিটির সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তা উপার্জন ও সংসার চালাবার উপায় নিয়ে। সব মিলিয়ে একটা পারিবারিক অশান্তি। আর সামগ্রিকভাবে এসবের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে পারিবারিক সহিংসতার মধ্য দিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই এরকম সহিংসতার শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা।

বেসরকারি সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম জানান, করোনায় ঘরে আবদ্ধ থাকার কারণে সহিংসতার শিকার হয়েও নারীদের পক্ষে বাইরে থেকে সাহায্য পাওয়া সম্ভব হয় নি। অনেককে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান দেয়া যায় নি।

‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ আরো জানিয়েছে, ২৭ জেলায় তাদের পরিচালিত জরিপে  ৪৫৬ জন শিশু পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ৪২৫ জন শিশু এর আগে কখোনো নিজ গৃহে নির্যাতনের শিকার হয় নি। এদের মধ্যে শতকরা ৯২ জন তাদের বাবা-মা অথবা পরিবারের নিকট আত্মীয়দের দ্বারা নিগৃহিত হয়েছে। তাছাড়া শুধু এপ্রিলে ৩৫টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে দশটি শিশু ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

নারী ও শিশু বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৬৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই