তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সমকালীন ভাবনা

প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সমকালীন ভাবনা-মোঃ মোখলেছুর রহমান
[ভালুকা ডট কম : ০৭ অক্টোবর]
বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (School Level Improvement Plan)  সংক্ষেপে স্লিপ নামে পরিচিতি। এটি তৃণমূলে অবস্থিত বিদ্যালয় পর্যায়ের পরিকল্পনা। এটি স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সরকারী ও স্থানীয় জনগণের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রণীত ০৩ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা যা একটি প্রাইমারী স্কুলের সার্বিক উন্নয়নের দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধারণাকে কেন্দ্র করে ২০১০-১১ অর্থ বছরে এটি প্রণীত হয় বলে জানা যায়।

SLIP-এর লক্ষ্যঃ স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকারী গ্রান্টের সাথে স্থানীয় সম্পদ মিলিয়ে তহবিল গঠন করে বিদ্যালয়ের কাঙ্খিত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

উদ্দেশ্যঃ শিখন ও শেখানোর পরিবেশ উন্নত করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর শিক্ষার পরিবেশ আকর্ষনীয় করা যাতে কোমলমতি শিশুরা  স্কুলে ভর্তি হয় এবং শ্রেণী কক্ষে খেলাধুলার মাধ্যমে পড়াশুনা আরম্ভ করতে শেখে। বৈষম্যহীন শিক্ষার ব্যবস্থা করা। শিশুবান্ধব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। সকলকে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত করা। ভিন্ন পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা। বিদ্যালয় কেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি হল এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

SLIP-তহবিলের উৎসঃ SLIP-এর তহবিল গঠিত হবে সরকারী মঞ্জুরী এবং স্থানীয় জনগণের প্রদত্ত দানের মাধ্যমে। বিগত অর্থবছর গুলোর রেকর্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, SLIP-এর সরকারী মঞ্জুরী ১০,০০০ থেকে ৪০,০০০ ঠেকেছে।  স্থানীয় জনগণের চাঁদার/দানের পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়। সরকারি মঞ্জুরী সিড মানি হিসেবে কাজ করবে।

SLIP-তহবিল ব্যয়ের খাত ও নিয়মাবলীঃ SLIP তহবিল ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কতিপয় খাত রয়েছে।  SLIP পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা অনুমোদন করে নিতে হবে। অনুমোদন নেয়ার পর  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশিত খাত মোতাবেক ব্যয় করতে হবে।

SLIP- বাস্তবায়নের সরেজমিন চিত্রঃ আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সুবাধে ঝখওচ সম্পর্কে যে চিত্র পাওয়া গেছে তা নিন্মরুপঃ
(১)  কোন বিদ্যালয়ে উল্লেখ করার মত স্থানীয় অনুদান সংগ্রহ করা হয়নি কিংবা পাওয়া যায়নি।  শুধুমাত্র স্থানীয় তহবিল দেখানোর জন্য  এক বা দুই হাজার টাকা জমা করা হয়েছে। সিড মানি হিসেবে  সরকারী যে বরাদ্দ টুকু এসেছে তাই ব্যয় করা হয়েছে। কাজেই এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের  যে ধারণাটি করা হয়েছিল তা একেবারেই বাস্তবায়িত হয়নি।
(২)  SLIP এর মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনা থাকার কথা কিন্তু তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
(৩)  এ কর্মসূচীর তহবিল ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে গেছে।
(৪)  এ তহবিলকে কেন্দ্র করে অনেক জায়গায় সভাপতি  হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরী হয়েছে। অনেক জায়গায় একাধিক প্রার্থী থাকায় অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে।
(৫) অনেক জায়গায় স্থানীয় সভাপতির অনৈতিক চাপে প্রধান শিক্ষক এ তহবিল খরচ করতে বাধ্য হন বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ আসে।
(৬)  উক্ত তহবিলের ব্যয় নিরীক্ষার জন্য যে ঝঅঈ গঠন করা হয়েছে সেটির কোন কার্যকর ভূমিকা আছে বলে মনে হয়নি। তারা শুধু ভাউচার স্বাক্ষর করে বলে অভিযোগ আছে।
(৭) মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা পুরোপুরি পরিপালন অনেক ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়নি।
(৮) SLIP বাস্তবায়নের কোন দৃশ্যমান পবির্তন মানুষের কাছে পরিলক্ষিত হয়নি।

slip-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে সুপারিশমালাঃ বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঝখওচ একটি চমৎকার ধারণা হতে পারত। কিন্ত মাঠ পর্যায়ে এটি আজ ফলদায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে নি তা উপরোক্ত চিত্র থেকে বুঝা যায়। এটি কার্যকর করার জন্য সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে।
(১)    পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে উপজেলা  শিক্ষা কমিটির এক সুষ্পষ্ট ভূমিকা পালনে দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিতে হবে।
(২)    উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ক্রয় প্রক্রিয়ার সভাপতি করলে প্রধান শিক্ষকের উপর অনৈতিক কোন চাপ থাকবে না।  এতে প্রধান শিক্ষক নির্ভিক চিত্তে কাজ করতে পারবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার যে ক্ষমতা আছে তা প্রয়োগ করে স্থানীয় তহবিল সংগ্রহের বিষয়টিকে নিশ্চিত করতে পারবে।
(৩)    SLIP তহবিলের সরকারী যে মঞ্জুরী দেয়া হয় তা অর্থ বছরের শুরুতে ছাড় করতে হবে যাতে তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে  পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
(৪)    SMC সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দিতে হবে। এ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করা যেতে পারে। তাহলে সভাপতি হওয়ার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমে যাবে। আমাদের সমাজে  এখন স্নাতক ডিগ্রীধারী লোকের অভাব নেই। কাজেই এ বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে।
(৫)    SMC সভাপতির ক্ষেত্রে স্থানীয় তহবিল সংগ্রহের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া যেতে পারে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে সভাপতির পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। সভাপতি শুধু মাতবরি করবেন, স্থানীয় সম্পদ সংগ্রহ করবেন না তা হতে পারে না।
(৬)    SLIP-এর জন্য প্রবর্তিত ফরমগুলো আরও সহজবোধ্য করতে হবে যাতে শিক্ষকেরা সহজে এটি পূরণ করতে পারে।
(৭)    ক্রয় কমিটি হতে প্রধান শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষককে বাদ দিলে সেটি সব চেয়ে ভাল ফল দিতে পারে। প্রধান শিক্ষক শুধু ক্রয়কৃত মালামাল  বুঝে নিবেন এবং বিল পরিশোধ করবেন।

বর্তমানে প্রতিটি সরকারী বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ৫,০০০/- টাকা, টুকিটাকি মেরামতের জন্য ৯,০০০/- টাকা এবং SLIP এর জন্য ৪০,০০০/- টাকা মঞ্জুরী দেয়া হয় যা একক ইউনিটে কম হলেও সামগ্রিক ইউনিটে অনেক বড়। সরকারী এ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। সম্মানিত শিক্ষকগণেরা এ অর্থ ব্যয়ের ঝামেলায় যদি জড়িয়ে যায় ছাত্র-ছাত্রীদেকে শিক্ষা প্রদানের কাজ ব্যতিরেখে তাহলে পুরো ব্যাপারটা বুমেরাং হয়ে যাবে যা কোন ভাবে আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে না। কাজেই সময় এসেছে এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাববার।

লেখক: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আত্রাই, নওগাঁ।





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কলাম বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই