তারিখ : ২৪ জুন ২০১৮, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসার খোলা চিঠি

বর্তমান সরকারের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষে
প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসার খোলা চিঠি
[ভালুকা ডট কম : ১৩ জানুয়ারী]
১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছিলেন ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কারো কটাক্ষ সহ্য করা হবে না’।

তখন রাজধানীর কাফরুলে টাকা দিয়েও চাকরি না পেয়ে রফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় আ’লীগ-পুলিশের তান্ডবে ফুঁসে উঠেছিল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সারাদিন ব্যাপী বি-বাড়ীয়ায় দফায় দফায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এমনকি ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছিল। পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ একসাথে প্রাচীনতম মাদ্রাসায় হামলা করে এবং নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে একজন মাদ্রাসার ছাত্রকে হত্যা করে। রক্তাক্ত হয় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে দেশের সবকটি সরকারি-বেসরকারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাদের মর্যাদা-অধিকারের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে এবং শ্রেণিকক্ষে বড় বড় তালা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। একই দিনে চাপাইনবাবগঞ্জের চিহ্নিত প্রতারক, চাঁদাবাজ, এলাকার ত্রাস ও গডফাদার আ’লীগ নেতা আবু বাক্কারকে ৯ কেজি গানপাউডার, অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সব জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে শুধুমাত্র মহাজোটকে সাথে নিয়ে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ১৫৩ জন বিনা ভোটে সংসদ সদস্য উপহার দিয়েছিলেন। যা গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য একটি অশুভ পদক্ষেপ হিসেবে আজো কালো তালিকাভুক্ত রয়েছে। এরপর একে একে গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠান সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস ও দখল করে নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্ট, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন বাদ পড়েনি। মানুষের ভোটের অধিকার ও মানবাধিকার বলতে অবশিষ্ট আর কিছুই নেই। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায় সাধারণ মানুষ। বিরোধীদলের উপর অত্যাচার-নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চালিয়ে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে আপনার দুই বছরের ভোটারবিহীন সরকার।

বর্তমান সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে বারবার প্রচার করলেও দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের কোন সম্মান নেই খোদ অভিযোগ তুলেছে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। মহান স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, জেড ফোর্সের মহানায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে খলনায়ক করতে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও নানা মিথ্যা তথ্য ও বক্তব্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃত করে অনেক লেখনীও লিখেছে এই সরকারের কথিত সুশীল সমাজ ও মন্ত্রী-এমপিরা। আ’লীগ সরকারের মধ্যে থাকা মন্ত্রী-এমপিরাও যখন সত্য কথা উচ্চারণ করেছে তখন তারাও নানাভাবে লাঞ্চিত হয়েছে এবং নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। সেই তালিকায় অন্যতম আরেকজন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও আ’লীগের মন্ত্রী সভার অন্যতম সদস্য এ.কে খন্দকার এবং আ’লীগের প্রবীণ নেতা তাজউদ্দিনের সুযোগ্য পুত্র সোহেল তাজউদ্দিন। অথচ সেই আওয়ামী লীগ আমলেই দেশী-বিদেশী মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার নামে তাদের উপহারের ক্রেস্ট থেকে সোনা চুরি করার অভিযোগও রয়েছে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার শাসনামলে শুধুমাত্র বিরোধীদলের সক্রিয় হওয়ার অপরাধে এম. ইলিয়াছ আলী, কমিশনার চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অসংখ্য নেতাকর্মীরা আজো গুম রয়েছে। গুম হওয়া পরিবারের অনেক সদস্যদের বর্তমান জীবন নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একবারও কি ভেবে দেখেছেন তারা কেমন আছে। বছরের শুরুতেই মহা ধুমধামের সাথে বই উৎসব করেছেন। কিন্তু অনেক গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের শিশু সন্তানেরা অর্থের অভাবে আজো স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। কিন্তু কেন? কথিত ক্রসফায়ারে বিরোধীজোটের নেতাকর্মীদের র‌্যাব-পুলিশ নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। তাদের পরিবার এখন অনেকেই মানবেতর জীবন-যাপন করছে। খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনির স্ত্রী মনীষা আজো চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলে জনী তার প্রিয় সন্তানকে দেখে মরতে পারল না। জনীর মৃত্যুর ২ মাস পর মনীষার কোল জুড়ে নহরের জন্ম হয়েছিল। নহর জন্মদাতা পিতাকে কোনদিনও দেখতে পারবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতার কথা বলেছেন। কিন্তু আজো শিশু মেঘের দায়িত্ব নেয়ার পরেও কোন বিশেষ দিনে  আপনার কোলে মেঘকে দেখা যায়নি। বরং আজো মেঘ তার বাবা-মা সাগর-রুনির হত্যার বিচার পায়নি। সত্য কথা বলতে গিয়ে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি দৈনিক আমার দেশের সাহসী ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান কারাগারে ১ হাজার দিন অতিবাহিত করেছে এবং করছে। তার স্ত্রী জানে না সে কবে মুক্তি পাবে।  ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক শওকত মাহমুদ আজো কারাগারে মৃত্যুর সাথে পাঞ্চা লড়ছে। দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামী টেলিভিশন কবে খুলবে কেউ জানে না। একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছিল। কারাগারে আব্দুস সালাম আজো থাকলে তার একুশে টেলিভিশন আ’লীগের পুরোপুরি দখলে চলে গেছে। সারাদেশে শত সহস্র সাংবাদিকরা আজো নির্যাতনের শিকার। এটাই কি আপনার গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা।

প্রিয় বঙ্গবন্ধুর কন্যা, আপনার কাছে জাতির প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু আপনি আপনার সরকারের কোন সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না শুধুমাত্র সত্য কথা বলার জন্য ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারি গভীর রাতে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। ২১ ঘন্টা পর আপনার র‌্যাব জানিয়েছিল তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছেন। নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস, ব্যারিস্টার রফিকুল হকসহ সুশীল সমাজের নন্দিত ব্যক্তিবর্গদের সত্য কথা বলার কারণে নানা সময় অপমানিত হতে হয়েছে। আর যারা টক শো তে নিয়মিত কথা বলেন তারা এখন সত্য কথা উচ্চারণের প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে গেছেন। ক্ষোভ-হতাশা আর কষ্ট নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. পিয়াস করিম না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

গত ২ বছরে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন জাতি প্রহসনের নির্বাচন দেখেছে। ২০১৫ সালের সর্বশেষ দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার  পৌর নির্বাচনে ভোট ডাকাতির যে নগ্ন দৃশ্য তা আবারো মনে করিয়ে দেয় বর্তমানে গণতন্ত্র কোমায় রয়েছে। আপনার বক্তব্য উন্নয়নের যে মহাসড়কের কথা বলেছেন এবং ঢাকা শহরে ভয়াবহ যানজটে আনন্দ প্রকাশ করে বলেছেন এটাই তার উন্নয়নের প্রমাণ। আপনার সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেছেন দেশের উন্নয়নের জন্য জননেত্রীকে আরো কয়েক টার্ম সময় দিতে হবে। এটা নিশ্চিত করার জন্যই আপনি কি যাবতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। অথচ মন্ত্রী সভার সদস্যরা বলছেন কমেছে। যখন মন্ত্রী সভার সদস্যদের সন্তানরা নির্মম সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় তখনো তাদের বোধদয় হয় না। দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আজ পথে বসেছে। ঢাকা শহরের অধিকাংশ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা বাণিজ্য করলেও দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তারা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আগের মত ক্রয় করছে না। ২০০১ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যে ৬% জিডিপি ছিল ১৫ বছর পরে এখনো সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। শেয়ার বাজারে ধ্বস ও লুন্ঠন সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে কোটি কোটি টাকা প্রকাশ্যে লুন্ঠন আমাদের অর্থনীতি নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে পদ্মা ব্রীজের প্রকল্পে নতুন করে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ভার বেড়েছে। তাহলে উন্নয়নের মহাসড়কের নামে দেশ কোথায় ছুটে চলেছে।

উপসংহারে আপনার কাছে এটুকুই বলতে চায় আপনার চারপাশে যারা রয়েছে তারা হয়তো আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছে না। সমাজের সঠিক চিত্র তুলে ধরছেন না। কারণ, আপনি যখন ঘর থেকে বের হন তখন ১ ঘন্টা আগেই সকল সড়ক ফাকা হয়ে যায়। যানজটের কষ্ট আপনি ১ সেকেন্ডের জন্যও উপভোগ করেন না। তাই বাবার সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে দেশের মানুষকে এখনো ভালবাসুন। দেশের জনগণের স্বার্থে গণতন্ত্রের সংকট উত্তরণের জন্য নাগরিকদের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি আকুল আবেদন আর বক্তব্য-বিবৃতি নয় দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সংলাপে বসে জাতিকে মুক্তি দিন।

বার্তা প্রেরক
মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

খোলা চিঠি বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ২০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই