তারিখ : ১৯ জানুয়ারী ২০২১, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় গ্রাম আদালতে বিবাদীকে ডেকে লাঠিপেটা

নওগাঁয় গ্রাম আদালতে বিবাদীকে ডেকে লাঠিপেটা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান
[ভালুকা ডট কম : ০৭ জানুয়ারী]
নওগাঁয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে বিচারের নামে ডেকে নিয়ে এসে বিবাদী তিন ব্যক্তিকে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি হলেন সদর উপজেলার কীত্তিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান। বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন চত্বরে এ মারপিটের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন একই ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের শাজাহান আলী ভুট্ট (৩৮), জাহিদুল ইসলাম নারু (৫৫) ও ফিরোজ হোসেন (২৭)।

জানা গেছে, মাগুরা গ্রামের শাজাহান আলী ভুট্ট ও মোহাম্মাদ আলী শাহের ছেলে হাসুসহ পাঁচজন শরিকানা একটি পুকুর রয়েছে। বুধবার সকালে পুকুর থেকে জোর পূর্বক শ্যালো মেশিন ভাড়া করে নিয়ে এসে পানি তুলছিলেন হাসু। শ্যালো মেশিনের মালিক একই গ্রামের আদেশ আলীর ছেলে রাসেল। এসময় শাজাহান আলীর স্ত্রী শাহনাজ পানি উঠাতে রাসেলকে নিষেধ করে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পুকুরের শরিকানা মালিক হাসু লাঠি দিয়ে শাহনাজকে আঘাত করে। বিষয়টি শাহনাজ তার স্বামীকে অবগত করে। পরে শাজাহান আলী ঘটনাস্থলে আসলে আবারো উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে শাজাহান আলীর বাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হাসু। থানায় বিষয়টি অবগত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ওই দিন বিকেলে শ্যালো মেশিনের মালিক রাসেলের বাবা আদেশ আলী বাদী হয়ে গ্রাম আদালতে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গ্রাম আদালতে শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু, ফিরোজ হোসেন ও সাত্তারের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময় তাদের ইউনিয়ন পরিষদের উপস্থিত থাককে বলা হয়। আহতরা নির্দিষ্ট সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হলে তাদেরকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান কোন কথা ছাড়াই একে একে ঘর থেকে বের করে লাঠি দিয়ে তাদের মারপিট করে। এরপর জোরর্পূবক তাদের নিকট থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে ছেড়ে দেয়া হয়। বর্তমানে আহতরা নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত শাজাহান আলী ভুট্ট, জাহিদুল ইসলাম নারু ও ফিরোজ হোসেন বলেণ, গ্রাম আদালতে বিচারের নামে চেয়ারম্যান আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের ডেকে কোন কথা ছাড়াই আমাদের লাঠিপেটা করে। অন্যায় ভাবে আমাদের নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা চেয়ারম্যানের বিচার দাবী করছি।

কীত্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান মারপিটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যাদের কে মারপিট করা হয়েছে তারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। আইনে যদিও মারপিট করার বিধান নাই। কিন্তু তাদেরকে মারপিট করা আমার দৃষ্টিতে ঠিক হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, বিচারের নামে কাউকে মারপিট করার এখতিয়ার ইউপি চেয়ারম্যানদের নাই। গ্রাম আদালতে চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনের তিনি নোটিশ ও জরিমানা করতে পারেন। গ্রাম আদালতে যখন তারা পারবেন না উপরের পাঠিয়ে দিবেন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩০০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই