তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২২, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে দুধ নিয়ে লোকসানের মুখে খামারীরা

রাণীনগরে স্থানীয় ভাবে দুধের বাজার না থাকায় দুধ নিয়ে লোকসানের মুখে খামারীরা,অনেকেই বন্ধ করেছে খামার
[ভালুকা ডট কম : ২৫ ফেব্রুয়ারী]
নওগাঁর রাণীনগরে দুধ বিক্রিতে স্থানীয় ভাবে কোন বাজার গড়ে না ওঠায় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না খামারীরা। ফলে দুগ্ধজাত গরু পালন করে লোকসানের কবলে পরে অনেকেই খামার ছেড়ে দিচ্ছেন। তাই উদ্যোক্তা ধরে রাখতে এবং খামারীদের লোকসানের কবল থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় ভাবে দুধের বাজার গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন খামারীরা।

উপজেলা প্রানিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় উদ্যোক্তারা ১৭৫টি দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় ভাবে দুধ বিক্রির কোন ব্যবস্থা না থাকায় অর্ধশতাধিক খামার ছেড়ে দিয়েছেন খামারীরা। ফলে বর্তমানে ১২০টি খামারে দুধ উৎপাদন হচ্ছে। তবে এসব খামার থেকে প্রতিদিন কি পরিমান দুধ উৎপাদন হয় সে ব্যাপারে তথ্য দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। খামারীরা বলছেন, বর্তমান গো-খাদ্যের লাগামহীন দাম সে তুলনায় দুধ বিক্রিতে নায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ফলে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। দুধ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট বাজার গড়ে ওঠলে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন কোম্পানী এবং দই-মিষ্টি তৈরিতে পাইকাররা এসে দুধ ক্রয় করতে পারতো। এতে নায্য দামও পাওয়া যেতো। কিন্তু সেই বাজার না থাকায় দই এবং মিষ্টি দোকানিরা তাদের ইচ্ছে মতো দাম দিয়ে দুধ কিনছেন। দুধের নায্য দাম না পাওয়ায় এপর্যন্ত প্রায় ৫৫জন উদ্যোক্তা দুধ বিক্রি নিয়ে ভোগান্তির কারনে  লোকসানে পরে খামার ছেড়ে দিয়েছেন।

রঞ্জনিয়া গ্রামের মেসার্স দুই বোন ডেইরি ফার্মের মালিক আতোয়ার রহমান জানান, তার ৮টি গরু থেকে প্রতিদিন শতাধিক লিটার দুধ উৎপাদন হয়। প্রতি লিটার দুধ ৩৫ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা লিটার বিক্রি করতে হচ্ছে। মালশন গ্রামের আমিন হাসান এগ্রো লিমিটেডের মালিক আব্দুল মান্নান জানান, তার খামারে প্রায় ৪০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে দুধ উৎপাদনে গরু রয়েছে ৭টি। দুধের বাজার না থাকায় ৪০ টাকা লিটার দরে ঘোষের কাছে  বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় দুধ বিক্রিতে স্থানীয় ভাবে বাজার গড়ে তোলা, দুধের মজুদসহ নানা রকম সুযোগ-সুবিধার কথা গত দুই বছর ধরে শুনে আসছি কিন্তু এর কোন বাস্তবায়ন দেখছি না। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিনের উৎপাদিত দুধ শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিনই গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করতে হতো। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারনে গত দেড় মাস আগে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। একদিন আবহাওয়া জনিত কারনে অথবা কোন কারনে শ্রমিক না আসলে দুধ নিয়ে চরম বেকায়দায় পরতে হতো।

খামারীদের মতে, পশু পালনে সরকার প্রশিক্ষন, ঋণ দিয়ে যে ভাবে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় ভাবে দুধ বিক্রির ব্যবস্থা ও সরকারী ভাবে দুধের দাম নির্ধারণ করে নায্য মূল্য নিশ্চিত করলে উপজেলার শত শত শিক্ষিত বেকার যুবকরা কর্মসংস্থানের জায়গা করে নিতে পারবে। সুতরাং দুধের বাজার গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

লাইভ স্টক ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) রাণীনগর উপজেলা লাইভ স্টক এক্সটেনশন কর্মকর্তা (এলইও) শরিফ উদ্দীন মন্ডল বলেন, প্রকল্পের আওতায় জরুরী কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত রমজান মাসে দেড় মাসের মতো সময় ধরে খামারীদের নিকট থেকে দুধ, ডিম, মাংস ক্রয় করে বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ভাবে দুধের বাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনার বিষয়টি জানা নেই।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কর্মকর্তা কামরুন্নাহার আকতার এই সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, দেশের অন্যনান্য উপজেলায় নির্দিষ্ট বাজার রয়েছে যেখানে খামারীরা প্রতিদিন দুধ নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু এই উপজেলায় এরকম কোন বাজার নেই। সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে দ্রুত নির্দিষ্ট বাজার গড়ে তুলতে চেষ্টা করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন এটি খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। দিন দিন যে ভাবে খামারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এই উপজেলায় একটি স্থানীয় ভাবে দুধ বিক্রির জন্য একটি বাজার অতিব জরুরী। আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানাবো।#




সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৩৪৩০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই