তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২২, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় দূর্গা পূজার প্রতিমা তৈরীতে শিল্পীদের ব্যস্ততা

ভালুকায় ৬৩ মন্দিরে দূর্গা পূজা, প্রতিমা তৈরীতে শিল্পীদের ব্যস্ততা
[ভালুকা ডট কম : ১৬ সেপ্টেম্বর]
নদীর কিনারে সাদা কাশফুল আকাশ জুড়ে শুভ্র মেঘের ভেলা প্রকৃতির হাতছানিতে জানান দেয় সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে লেগেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের ছোঁয়া। ভালুকা পৌর এলাকা সহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ৬৩ টি মন্দিরে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্টিত হবে। পূজা মন্ডপ গুলিতে প্রতিমা তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীগণ।

মৃৎ শিল্পীদের নিঁপুন হাতের ছোঁয়ায় দেবী দূর্গা, লক্ষী, স্বরশতি, গণেশ, কার্তিক,মহিস্বাশুর সহ সকল প্রতিমায় সৌর্ন্দযের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে দিন রাত যেন বিরামহীন প্রানান্ত চেষ্টা তাদের। ভালুকা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড রায় বাড়ীর পূজা মন্ডপে বুধবার রাতে প্রতিমা গড়ার কাজ করছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলার বেনুপুর গ্রামের মৃৎ শিল্পী মনিন্দ্র পাল (৫০)। তিনি জানান তার ঠাকুর দাদার আমল হতেই প্রতিমা গড়ার কাজ করে সংসার জীবিকা চালিয়ে আসছেন। প্রতি বছর দূর্গা পূজা আসলে তাদের রাতদিন প্রতিমা তৈরীর কাজ করতে হয়। এ বছর মোট আটটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ হাতে নিয়েছেন। ভালুকায় ১টি সাবার ফুলবাড়িয়া ১টি হেমায়েতপুর ১ টি জয়দেবপুর স্বর্ণপট্টি ১টি নিজ গ্রামে ১টি বাসনা ধামরাই ১টি সহ মোট ৮ টি মন্দিরে পর্যায়ক্রমে প্রতিমা তৈরীর কাজ করে যাচ্ছেন। সহযোগী কারিগড়দের সাথে এইচ এসসি পড়–য়া ছেলে নিলয় পাল (১৮) সব সময় পাশে থেকে বাবার কাজে সাহায্য করে থাকেন। বাবার মত শিল্পী হওয়ার পাশপাশি উচ্চ শিক্ষা লাভে পরাশুনা করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন নিলয় পাল।

মনিন্দ্র পাল জানান প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরী বাবদ ৫০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা মজুরী পেয়ে থাকেন। তবে বাঁশ, মাটি, খড়, রং, আনুষাঙ্গিক খরচ ও সহযোগি কারিগড়দের বেতন বাবদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মত চলে যায়। মাটির শিল্প কর্ম শেষ হওয়ার পর শুকানোর জন্য অপেক্ষা। শুকিয়ে যাওয়ার পর রং ও সাজানোর কাজ সমাপ্ত করে তারা পূজারীদেরকে প্রতিমা গুলি বুঝিয়ে দেন। ছোট ছেলে শিমুল পাল (১৪) দশম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। স্ত্রী শেফালী রানী পাল (৪৫) গৃহিনী। তারা বিভিন্ন পূজা পার্বণে সারা বছর প্রতিমা তৈরী করে উপার্জিত টাকায় সংসারে অন্ন বস্ত্রের সংস্থান, দুই ছেলের লেখা পড়া ও যাবতীয় খরচ চালিয়ে থাকেন।

মনিন্দ্র পাল আক্ষেপ করে বলেন মৃৎ শিল্পীদের পরিচয় দেওয়ার মত সরকারী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোন সনদ, খেতাব কিংবা পরিচয়পত্র কোন কিছু না থাকায় আতংক নিয়ে তাদের যন্ত্রপাতি,সরঞ্জামাদি সহ এক স্থান হতে অন্যত্র যাতায়াত ঝুকি নিয়ে করতে হয়। কেননা নানা সমস্যায় জর্জরিত মৃৎ শিল্পীদের কোন এলাকা ভিত্তিক সংগঠন আজও গড়ে উঠেনি। তাদের চৌদ্দ পুরুষের জীবন জীবিকার এ পেশাকে বাঁচিয়ে রাখার লখ্যে সরকারী সুযোগ সুবিধা ও মৃৎ শিল্পীদের সহজ পরিচয় বহনের সুব্যবস্থার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টির দাবী জানিয়েছেন তিনি ।  ভালুকা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু বীরেন রায় জানান এ বছর পৌর এলাকা সহ  উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে মোট ৬৩ টি মন্দিরে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫২২২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই