তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

কালিয়াকৈরে থানায় নষ্ট হচ্ছে আটক করা যানবাহন

কালিয়াকৈরে থানায় নষ্ট হচ্ছে আটক করা যানবাহন
[ভালুকা ডট কম : ১১ আগস্ট]
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় আইনী জটিলতা এবং স্বল্প সময়ে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে পুলিশের আটক করা প্রায় শতাধিক বিভিন্ন ধরনের যানবাহন খোলা আকাশের নীচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে উভয় সংকটে পড়েছেন যানবাহনের মালিক এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে আটক করে আটক  করা এসব গাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

আটক  করা এসব গাড়ি মামলার আলামত হিসেবে থানার সামনে অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে বছরের পর বছর। রোদে আর বৃষ্টিতে ভিজে মরিচা ধরায় বেশীর ভাগ যানবাহনই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিন। অন্যদিকে দিন দিন জব্দ হওয়া যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রাখার স্থানের অভাব দেখা দিয়েছে।পাশাপাশি মামলার আলামত হিসেবে যানবাহন গুলি সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করতে না পারায় থানা পুলিশকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। থানা চত্বরে দিন দিন আটক করা গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর থানায় প্রায় শতাধিক গাড়ি পড়ে আছে যার বেশীর ভাগই মোটর সাইকেল। তবে এদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেট কার, পিকাপভ্যান, মাইক্রোবাস এবং ট্রাকও রয়েছে।কালিয়াকৈরে জব্দ করা গাড়ির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুলিশের দায়ের করা মামলায় নিজেদের জামিন হলেও আইনি জটিলতার কারণে গাড়িটি মুক্ত করতে পারছেন না। তারা আশংকা করছেন, আর কিছুদিন এভাবে থাকার পর আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠলেও হয়তো মোটর গাড়ি নয়,লোহা লক্কর ফেরত নিতে হবে। এছাড়াও সঠিক কাগজ পত্র না থাকায় অনেকেই গাড়ি ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। আবার অনেকে বৈধ কাগজ পত্র থাকা সত্বেও আইনী জটিলতা এবং হয়রানীর কারণে গাড়ি ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

এদিকে জব্দকৃত গাড়ি গুলোকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তা সহজ উপায়ে ছাড়পত্র প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজ গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবউল্ল্যাহ বেলালী বলেন, দীর্ঘদিন আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে থানায় জব্দ করা গাড়ি পড়ে আছে। জব্দ করা যানবাহনের সুষ্ঠু সংরক্ষণ এবং নষ্ট হওয়ার আগে নিলামে বিক্রি করে অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিলে ভালো হয়।

এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, জব্দ হওয়া যে সব যানবাহন রয়েছে, তার বেশীর ভাগই নাম্বার বিহীন, চুরি বা ছিনতাই ও মাদক সরবরাহ কাজে ব্যবহৃত। এদের কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করা হয়েছে। যা থানায় মামলার আলামত হিসেবে রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশক্রমে কেবলমাত্র এগুলোর ছাড়পত্র দেয়া যায় অথবা নিলামে বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার অর্থ জমা দেয়া হয়।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, জব্দকৃত গাড়ি দীর্ঘদিন আইনি জটিলতার কারণে থানায় পড়ে থেকে নষ্ট হয় কিন্তু এ প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করে নিলামে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করবো।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই