তারিখ : ১৫ জুন ২০২১, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

গৌরীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে চা দোকানির ডিসকাউন্ট

গৌরীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে চা দোকানি হারুনের ডিসকাউন্ট
[ভালুকা ডট কম : ০৬ জুন]
ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের ‘হারুন টি হাউজে’ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চায়ের বিল ৫০% ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন হারুন টি হাউজের মালিক হারুন অর রশিদ।

হারুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের সতীষা গ্রামে। সে ওই গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। তাদের ছয় ভাই বোনের মধ্যে চার ভাইবোন বিয়ে করে আলাদা হয়েছে। বর্তমানে মা-বাবা ও অনার্স পড়–য়া এক বোনকে নিয়ে হারুনের সংসার। হারুনের চা বিক্রির আয়ে চলে সংসার ও বোনের পড়াশোনার খরচ।

জানা গেছে অভাবের তাড়নায় হারুনের পড়াশোনা বেশিদূর যেতে পারেনি। সংসারের হাল ধরতে ৬ বছর আগে গৌরীপুর পৌর শহরের কালীখলা মহল্লায়  ‘হারুন টি হাউজ’ নামে চায়ের দোকান খোলেন হারুন। ব্যতিক্রমী গ্রাহক সেবা ও প্রতি বছর সেরা চা গ্রাহকদের সম্মননা দিয়ে হারুন টি হাউজ বেশ পরিচিতি লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতে এই ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করেন হারুন।

রাতে হারুন টি হাউজে চা চক্রে আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে অতিথি থেকে বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ আইনজীবি আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ ও শহীদ পরিবারের সদস্য প্রবীণ সাংবাদিক সুপ্রিয় ধর বাচ্চু মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এসময় অতিথিদের চা আপ্যয়নের মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চায়ের বিল ৫০% ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন হারুন।

হারুনের দোকানে প্রতি কাপ চায়ের দাম ৫ টাকা। তবে ৪ জুন থেকে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত  সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চায়ের বিল ৫০% ছাড় দেয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধারা যদি আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে  দোকানে চা পান করতে আসেন তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করবেন হারুন এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও বিরল ভালোবাসা প্রদর্শন করতে গিয়ে সে যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গৌরীপুরের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আমি হারুনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রবীণ সাংবাদিক সুপ্রিয় ধর বাচ্চু বলেন মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কতটা আবেগ ও ভালোবাসা থাকলে একজন চা দোকানি এই ধরণের উদ্যোগ নিতে পারে সেটা ভাবতেই আনন্দে চোখে জল এসে যায়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর হারুনের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ফুটে  উঠেছে সেটা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক এটাই প্রত্যাশা।

হারুন অর রশিদ বলেন আমি অভাবী মানুষ।  চা বেচে সংসার ও ছোটবোনের পড়াশোনার খরচ চালাই। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করতে গিয়ে নিজের সামর্থ্যরে মধ্যে কিছু করার চেষ্টা করেছি। মুক্তিযোদ্ধারা দোকানে চা পান করতে আসলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।#






  



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই