তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২২, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁর শিক্ষা প্রকৌশল অফিসে কর্মচারীদের ভয়

নওগাঁর শিক্ষা প্রকৌশল অফিসে মাষ্টাররোল কর্মচারীদের চাকুরি হারানোর ভয়
[ভালুকা ডট কম : ২৯ এপ্রিল]
নওগাঁর শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের বিভিন্ন পদে ৫জন মাষ্টাররোল কর্মরত কর্মচারীরা চাকুরি হারানোর আশংকা রয়েছেন। তারা আশংকা করছেন যে কোন সময় তাদের মাষ্টাররোলে কর্মরত পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন মাষ্টাররোলে কাজ করেও পূর্ণাঙ্গভাবে চাকুরি স্থায়ী হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ স্বজনপ্রীতি ও দূনীতি করে অদক্ষ কর্মচারীদের এভাবেই নিয়োগ দেয়া হয়।

জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে সারা দেশে প্রায় দেড় শতাধিক কর্মচারী দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে বা বিনা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক, হিসাব সহকারী, গাড়ী চালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দেশের বিভিন্ন জেলা কার্যালয় ও অফিস সমূহে কর্মরত আছে। যারা পায়না ঠিকমতো বেতন বা ঈদ বোনাসসহ অন্যান্য উৎসব ভাতা। জনবল সংকটের কারণে বিভিন্ন অফিসে এইভাবে তাদের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। কর্মরত মাষ্টাররোলের কর্মচারীরা সকলেই যথেষ্ট শিক্ষিত ও কর্মদক্ষ। তাদের অধিকাংশেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা অনার্স-মাষ্টার্স পাস এবং কর্মরত পদের জন্য সুযোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ। তবুও কোন এক অজানা কারনে চাকুরি স্থায়ী হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নওগাঁ শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের একজন মাষ্টাররোল কর্মচারি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যখন তীব্র জনবল সংকটে সরকারের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে তখন এই মাষ্টাররোল কর্মচারীরাই দপ্তরের সকল কাজ দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছে। লোকবল সংকটের কারণে যেই কাজ দুই-তিন জন কর্মচারী মিলে করা কষ্টকর, সেই কাজ একজনে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সম্পন্ন করেছে। আমাদের অফিসে আসার নির্দ্দিষ্ট সময় আছে (সকাল ৯টা) কিন্তু অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। আমরা প্রায়ই প্রতিদিন রাত ১১-১২ টা পর্যন্ত অফিস করে আমাদের কাজ সম্পন্ন করি। বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দীর্ঘ দিনের জনবল সংকট নিরসনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। চাকুরির জন্য আমাদের অত্র দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ অন্যান্য স্যারদের সাথে যোগযোগ করলে তারা নিয়োগ পরীক্ষার অজুহাত দেখিয়ে বলেন যে, আমাদের কিছু করার নাই। অথচ তারা মাষ্টাররোলের কর্মচারিদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণ না করে দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করে জনবল নিয়োগ দিচ্ছেন। এদিকে যারা দীর্ঘ ৫-১০-১৫ বছর ধরে অত্র দপ্তরে মাষ্টাররোলে চাকুরী করে আসছে তারা যদি নিয়োগ না পায় তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তার উত্তর জানা নেই। তাদের অধিকাংশেরই সরকারি চাকুরির বয়স শেষ হয়ে গেছে এখানে চাকুরি হবে এই আশায়। তাই তাদের অনেকেই এখন হতাশাগ্রস্ত এবং পারিবারিক ভাবে নতুন কর্মস্থরের সম্ভবনাও ক্ষীন। এরকম একটি দূর্নীতিগ্রস্ত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তদন্ত করে স্বচ্ছ নিয়োগ দান এবং এতোদিন যাবৎ সরকারের উন্নয়ন কাজে নিঃস্বার্থ অংশীদার হিসেবে কর্মরত সুযোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ বেতন-ভাতাহীন মাষ্টাররোলের কর্মচারীদের চাকুরি রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

নওগাঁ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবু সাঈদ বলেন, আমাদের এখানে মোট ৫জন মাষ্টাররোলে বিভিন্ন পদে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ২জন মাসিক সম্মানী পায়। আর বাঁকিদের মাঝে মাঝে কিছু সম্মানী দেয়া হয়ে থাকে। বিভিন্ন সময় নিয়োগ পরিক্ষা হয় সেগুলোতে যদি মাষ্টাররোলে কর্মরতরা লিখিত পরীক্ষায় টিকে যায়, তাহলে তাদের জন্য চাকুরি পেতে কিছুটা সহজ হয়। সঠিক নিয়মেই নিয়োগ কার্যক্রম হয়ে থাকে। এখানে আমাদের মতো নির্বাহী প্রকৌশলীদের কোন কিছু করার নেই তাই স্বজনপ্রীতি দেখানোরও কিছু নেই।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৩৪৩০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই