তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

মনপুরায় কুপিয়ে মুসল্লিকে জখম

মনপুরায় ৩০ বছর ধরে সভাপতির বিরুদ্ধে মসজিদের জমি জবরদখলের অভিযোগ, বিরোধের জেরে কুপিয়ে মুসল্লিকে জখম
[ভালুকা ডট কম : ১৮ মার্চ]
ভোলার মনপুরায় ৩০ বছর ধরে মসজিদের জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে খোদ মসজিদের সভাপতির বিরুদ্ধে। একাধিকবার শালিসের পর জমি মেপে বুঝিয়ে দেননি ৩০ বছর ধরে পদে থাকা ওই সভাপতি। ৩০ বছরে মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসেব-নিকেষ ও জমি বুঝিয়ে না দেয়ায় স্থানীয় মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে ওই সভাপতিকে সমাজ থেকে বহিষ্কার করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় আমীন ও শালিসদাররা জমি মেপে দেখার জন্য গেলে উত্তেজিত হয়ে এক মুসলিলকে ধারালো দায়ের কোপে জখম করেছেন সভাপতির ছেলে। দায়ের কোপে ওই মুসল্লির বাম হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উক্ত জখমের ঘটনায় আহত মুসল্লির স্ত্রী বাদী হয়ে মনপুরা থানায় মামলা করেন।

১৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর দুপুর সোয়া ২ টায় উপজেলার হাজীর হাট ইউনিয়নের চর ফৈজুদ্দিন গ্রামের ৮ নং ওয়ার্ডে রিজির খাল জামে মসজিদের জমি মেপে দেখার সময় এই জখমের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রিজির খাল জামে মসজিদটি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে  মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মোঃ জেবল হক ব্যাপারী (৭৫)। এবং তার বড় ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন সাধারন সম্পাদক ও সেজো ছেলে জামাল উদ্দিন ৩০ বছর ধরে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলো। এরমধ্যে ১৯৮৯ সালে মসজিদের নামে সভাপতি জেবল হক ব্যাপারী ১০ শতাংশ জমি ওয়াকফ্ দান দলিল দেন। কিন্তু ৩০ বছর কেটে গেলেও সেই জমি মসজিদকে মেপে বুঝিয়ে না দিয়ে জবরদখল করে রেখেছেন। বারবার স্থানীয় মুসল্লিরা জমি মেপে বুঝিয়ে দেয়ার কথা বললেও তারা তা মসজিদকে দেননি। উক্ত ১০ শতাংশ জমি মসজিদের সভাপতি জেবল হক জরবদখল করে ভোগ করছেন। এ নিয়ে মুসল্লিদির সাথে একাধিকবার শালিস হয়। কিন্তু তারা শালিস না মেনে একধিকবার মুসল্লিদের সাথে বিবাদে জড়ায়। মসজিদের জমি বুঝিয়ে না দেয়া ও আয়-ব্যয়ের হিসেব নিকেষ না দেয়ায় ২০২০ সালে মুসল্লিরা ক্ষুব্ধ হয়ে সভাপতিসহ তাদের তিন বাবা ছেলেকে মসজিদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে সমাজ থেকে বহিষ্কার করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে নিরীহ মুসল্লিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে জেবল হকের বিরুদ্ধে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর স্থানীয় আমীন নিয়ে জমি মেপে দেখছিলেন মুসল্লিরা। এসময় অভিযুক্ত জেবল হক ও তার ছেলেরা এসে বাধা দেয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জেবল হক ও তার ছেলেরা লাঠিসোটা দিয়ে মুসল্লিদেরকে এলাপাতারী মারধর করে। একপর্যায়ে তার মেঝো ছেলে মোঃ কামাল এসে খেজুর গাছ কাটার ধারালো দা দিয়ে কোপ দিয়ে মসজিদের মুসল্লি মোঃ ফখরুল ইসলাম (৪৫) এর বাম হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আহত ফখরুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। উক্ত ঘটনায় আহত ফখরুলের স্ত্রী বাদী হয়ে অভিযুক্ত মোঃ কামাল, জেবল হক ব্যাপারী, মোঃ জামাল ও মোঃ জসিমকে আসামী করে মনপুরা থানায় মামলা করেন।

এব্যাপারে রিজির খাল মসজিদের বর্তমান সাধারন সম্পাদক মোঃ খোকন মিয়া জানান, ১৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় আমীন দিয়ে জমি মেপে দেখছিলাম আমরা। এরমধ্যে সাবেক সভাপতি ও তার ছেলেরা লাঠিসোটা দিয়ে আমাদেরকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে খেজুর গাছ কাটা ধারালো দা দিয়ে মসজিদের মুসল্লি ফখরুলকে কুপিয়ে জখম করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযুক্ত রিজির খাল মসজিদের সাবেক সভাপতি ১০ শতাংশ জমির পাশাপাশি মসজিদের মক্তব ঘরকে জোরপূর্বক গরু ঘর হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এতে স্থানীয় শিশুদের আরবী শিক্ষা তথা মক্তব শিক্ষা ব্যহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এছাড়াও যারাই তার বিরুদ্ধে কথা বলেছে তাদেরকে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে জেবল হকের বিরুদ্ধে।

মসজিদের সাধারন মুসল্লি  ও স্থানীয় স্বপন মাঝি, মোঃ নুরুদ্দিন, আকরুজ্জামান, মহিউদ্দিন, জাকির, নুর ইসলাম, হাসেম ব্যাপারী, নুরনবী মাঝি ও রিপন জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মসজিদের সাবেক সভাপতি জেবল হক ব্যাপারী ১০ শতাংশ জমি জবরদখল করে ভোগ করছেন। এবং মসজিদের মক্তব ঘরটি জোরপূর্বক গরু ঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। জমি ও মক্তব ঘর বুঝিয়ে দেয়ার ব্যাপারে বহুবার শালিস হলেও তিনি কোন শালিসই মানছেন না। এবং তার বিরুদ্ধে কথা বললেই আমাদেরকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়। তার আত্মীয় স্বজন পুলিশের উচ্চ পদে চাকরী করায় তাদের প্রভাব খাটিয়ে এসব অপরাধ করছেন তিনি।

উক্ত জখমের ঘটনায় মামলার জের ধরে মনপুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে স্থানীয় ১৪ জন মুসল্লিকে আসামী করে পাল্টা মামলা করেছেন জেবল হক ব্যাপারী।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে রিজির খাল জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি মোঃ জেবল হক ব্যাপারী জানান, আমি মসজিদকে ১০ শতাংশ জমি দান করেছি। সেই জমি বর্তমানে মসজিদের দখলে রয়েছে। তবু একটা পক্ষ আমার কাছে সেই জমি অযৌক্তিকভাবে দাবী করে সমাজের কাছে আমাকে খাটো করতে চায়।

এমতাবস্থায় মসজিদের মুসল্লিদের বিরুদ্ধে সাবেক সভাপতির দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, জবরদখলকৃত ১০ শতাংশ জমি মেপে বুঝিয়ে দেয়া, মসজিদের ৩০ বছরের আয় ব্যায়ের হিসেব নিকেষ, মসজিদের মক্তব ঘর পুনরুদ্ধার ও অভিযুক্ত সাবেক সভাপতি জেবল হক ব্যাপারীর উপযুক্ত স্বাস্তি দাবি করছেন এলাকাবাসি।

এব্যাপারে মনপুরা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আহত মুসল্লি ফখরুল ইসলামের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আসামীরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অপরাধ জগত বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৮৯০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই