তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত

সিরাজগঞ্জ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ দুই মাস যাবত বন্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত
[ভালুকা ডট কম : ২৯ সেপ্টেম্বর]
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করায় প্রায় দুই মাস যাবত অচলবস্থায় রয়েছে সিরাজগঞ্জ সরকারি ভেটেরিনরি কলেজ। এতে পরীক্ষা-ক্লাস বন্ধ হওয়ায় কলেজে অধ্যয়নরত দুটি ব্যাচের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও কলেজটিতে রয়েছে শিক্ষক সংকট, বাজেট সংকট, ল্যাব সরঞ্জামাদি সংকট এবং সুপেয় পানিসহ নানা সংকট। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্তি বাতিলের পর থেকে স্বতন্ত্র অনুষদসহ বিভিন্ন দাবীতে শিক্ষার্থীরা টানা দুইমাস একাডেমিক ভবন তালাবদ্ধ করে, বিক্ষোভ-মানববন্ধনসহ আন্দোলন করলেও কোন সুরাহা হয়নি। এ অবস্থা দ্রুত সমস্যা সমাধানে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ হতে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার আজুগড়া এলাকায় সিরাজগঞ্জ সরকারী ভেটেরিনারী কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। সে হিসাবে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভেটেরিনারি কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এ্যানিমেলস সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারী মেডিসিন অনুষদের একই লেভেল এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একই সময়সুচীতে পরীক্ষা  হয়।  কিন্তু শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গত ২২ জুলাই শুধু তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যনয়রত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সুচী ঘোষণা করলেও সিরাজগঞ্জ ভেটেনারী কলেজের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয় না। কলেজ কর্তৃপক্ষ বারবার ডীন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করলেও কোন সাড়া পায়নি। ফলে ভেটেরিনারী কলেজের ১ম বিভাগ ও ২য় বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা অন্তত ৬ মাস পিছিয়ে পড়েছেন। এ খবর জানার পরই গত ২৫ জুলাই শিক্ষার্থীরা একাডেমিকভবন ও অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে নেমে পড়েন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছেনা। এ অবস্থা আমাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।  

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এস.এম ওলিউল্লাহ ও রিয়াদ হোসেন জানান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত কলেজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা নেটিশে আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেয়া হয়নি। দুই মাস ১১দিন যাবত ক্লাসসহ একাডেমিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আদৌ পরীক্ষা হবে কিনা তাও আমরা জানি না। আমাদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। শিক্ষার্থী হাবিবা খাতুন ও জয়শ্রী বলেন, কলেজটিতে সংকটের শেষ নেই। বিষয়ভিত্তিক কোন শিক্ষক নেই। এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিষয় পড়ানো হয়। ল্যাবে সরঞ্জামাদি না থাকায় প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করা হচ্ছে না। এছাড়াও দুষিত পানি পান করছি। সব মিলে আমরা চরম সমস্যায় ভুগছি। কিন্তু সংকট নিরসনে কেউ এগিয়ে আসছে না।

কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম বলেন, বিষয়টি নিয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করা হয়েছে কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরাও যেমন পিছিয়ে পড়ছেন তেমনি মহাসংকটের মধ্যে রয়েছি আমরাও।
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশিদ জানান, সিরাজগঞ্জ ভেটেরিনারি কলেজের সমস্যার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি জেনে তারপর ব্যবস্থা নেবেন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৬৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই