তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৪, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

শ্রীপুরে ৫’শ মিটার রাস্তার জন্য ১৪ কিলোমিটারের ভীতি

শ্রীপুরে ৫’শ মিটার রাস্তার জন্য ১৪ কিলোমিটারের ভীতি
[ভালুকা ডট কম : ২৩ জুন]
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার থেকে কাওরাইদ সড়কের ৫’শ মিটার রাস্তার জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে সড়কের ৫’শ মিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে রাস্তাটির শুরুর অংশে ইট বিছানো রয়েছে। ৫’শ মিটার রাস্তা চলাচল উপযোগী। এরপর থেকে ৫’শ মিটার রাস্তার বিভিন্ন অংশে খনা-খন্দ ও কর্দমাক্ত। অনেক গর্তে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সড়কের পাাশের চা বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার মধ্যে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হালকা যানবাহনগুলো জলাবদ্ধতার ওপর দিয়ে চলতে গিয়ে নানা দুর্ঘটনার শিকার হয়। চালকেরা আন্দাজ করতে পারেন না কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল।

অপর চা বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাস্তার পানি শুকিয়ে যেতে থাকলে কিছু কিছু যানবাহন দ্রুত চলাচল করে। ফলে রাস্তার পানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে দোকানে এসে পড়ে। ৫’শ মিটার রাস্তাটির জন্য জৈনা বাজার থেকে কাওরাইদ বাজার পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রাস্তা চলতে ভীতি সৃষ্টি হয়।

ট্রাক চালক কাদু মিয়া বলেন, বর্ষায় ট্রাকের চাকা পুরোটাই পানিতে নিমজ্জিত থাকে। অপর চালক দিরাজ আহাম্মেদ জানান, রাস্তা দিয়ে ট্রাক চালানোর সময় উল্টে বা কাত হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ট্রাক চালক হৃদয় মিয়া ও আলাল মিয়া জানান, সড়কটি যান চলাচলের একবোরেই অনুপযোগী। কিন্তু এ রাস্তা ছাড়া কাওরাইদ, তেলিহাটী, বলদীঘাট, আবদারসহ কমপক্ষে ২০টি গ্রামে চলাচলের কোনো বিকল্প নেই। দুটি ট্রাক সাইড নিতে গেলে অতিরিক্ত সময় লাগে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়।

সিএনজিচালিত অটোরিক্সাচালক আব্দল বাতেন বলেন, ৫’শ মিটার চলাচল অনুপযোগী রাস্তার জন্য ঘন ঘন অটোরিক্সার পার্টস বদলাতে হয়। অপর চালক বিল্লাল হোসেন জানান, প্রতিদিন বাড়তি মজুরী দিয়ে দু’বার গাড়ী পরিষ্কার করতে হয়। চালক আরিফ ও শাকিল জানান, রাস্তা থেকে পানি সরানোর কোনো উপায় নেই। বৃষ্টির পানি রাস্তায় পড়ে রাস্তাতেই শোকায়। সামান্য বৃষ্টি হলে আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ার পরও কমপক্ষে ১৫ দিন রাস্তায় পানি থাকে।

স্থানীয় তমিজ ডেকোরেটরের স্বত্তাধিকারী তমিজ উদ্দিন বলেন, এখানে একটি ডিগ্রী কলেজ, কিন্ডার গার্টেন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল কলেজে যেতে এ ভাঙ্গা রাস্তার জন্য সময় বেশি লাগে। গাড়ি আসা-যাওয়ার সময় গর্তের পানি ছিটকে জামা-কাপড় নষ্ট হয়। তখন ছাত্র-ছাত্রীরা ওই দিন স্কুল কলেজে না গিয়ে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।

রিক্সাচালক তাহের আলী ও রুবেল মিয়া বলেন, জীবিকা নির্বাহের তাগিদে জলাবদ্ধ রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। ঘন ঘন রিক্সার পার্টস বিকল হয় । এর জন্য রিক্সারোহীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়াও আদায় করতে পারি না। বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুজায়েত হোসেন জানান, রাস্তাটির অচলাবস্থার কথা তিনি শুনেছেন। এলাকাবাসীর কাছ থেকে একাধিকবার অভিযোগও এসেছে তার কাছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ঈদের ছুটির পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল জলিল বিএ জানান, রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। চলাচলকারীদের দুর্ভোগ এবং ঈদে ঘরমুখো বাসিন্দাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদের আগেই প্রয়োজনে ব্যাক্তিগত অর্থায়নে রাস্তাটির এ অংশ চলাচল উপযোগী করা হবে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯৩৯১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই