তারিখ : ২৮ মে ২০২৪, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় বোরো ধান মাড়াইয়ে উৎসবের আমেজ

ভালুকায় বোরো ধান মাড়াইয়ে কৃষক পরিবারে উৎসবের আমেজ দাম পেয়ে খুশি
[ভালুকা ডট কম : ১৪ মে]
ভালুকায় উৎসব মুখর পরিবেশে বোরো ধান মাড়াই চলছে দাম বেশী পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসিও ফুটেছে।প্রকৃতির বিরুপ আচরণ আর নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত মাঠের সোনালী ধান পরিবারের লোকজন মিলে কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভালুকার বোরো চাষীরা। দম ফেলার ফুসরত নেই পরিবারের কারোরই।

ধান মাড়াইয়ের খলা তৈরীতে কৃষান বউঝিরা গোবর দিয়ে উঠান লেপায় ব্যস্ত। খেত হতে কাটা ধানের আঁটি এনে রাখা হচ্ছে বাড়ীর আঙ্গিনায় তৈরী করা খলায়। যেখানে আঁটি হতে ধান ছাড়িয়ে খড় উড়িয়ে পরিষ্কার ধান তোলা হবে ঘরের গোলায়। নতুন ধান ঘরে তোলে সুগন্ধি গুডি শাইল (আতপ) ধানের চাল দিয়ে খীড় রেধে মসজিদের ঈমাম সাহেবকে মিষ্টি মুখ করে নিজেরা খাওয়ার প্রথাটি এখনও কোন কোন এলাকার কৃষক পরিবারে বিদ্যমান রয়েছে। তবে এখন অবশ্য ধান মাড়ানোর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন অনেক কৃষক।

ভ্রাম্যমান ধান মাড়াই কল নিয়ে কৃষকের উঠানে হাজির হচ্ছেন কল মালিকরা। মাড়াই কলে আঁটি হতে ধান ছাড়াতে কাঠা প্রতি ৩০০ টাকা খরচ দিতে হচ্ছে চাষীদের। দুপুর রোদে কৃষাণ কৃষানীরা মাড়াই হওয়া ধান ছালায় ভরে সাথে সাথেই নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ীতে। দীর্ঘ সময় গরুর মলন ঘুড়িয়ে এখন আর ধান মাড়াই করতে হয়না। বৈদ্যুতিক মটর চালিত নলকূপের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থা তরান্বিত হওয়ায় ভালুকা উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বেশীর ভাগ এলাকার উঁচু ও নীচু জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশী। জাত ভেদে কিছু জমির ধান ব্লাষ্ট আক্রান্ত হলেও বেশিরভাগ জমিতে বোরো ধানের ফলন ভাল হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছে।কাক ডাকা ভোরে বাহুক আর কাস্তে নিয়ে ধান কাটতে মাঠে যান কৃষকরা। সারাদিন ধান কেটে বিকাল হতেই বাহুকে ধানের আঁটি বেঁধে বাড়ির উঠানে আনার পালা।

সোমবার দুপুরে উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের ধামশুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কৃষক শহীদুল্লাহ শেখের জমিতে বোরো ধান কাটছিলেন পরিবারের কয়েকজন । এ সময় তিনি জানান তিন বেলা খাবার ও ৫০০ টাকা জন প্রতি মজুরী দিয়ে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। তাই তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে নিজের ক্ষেতের ধান কাটছেন। তিনি  দুই একর ১৬(২১৬ শতাংশ) জমিতে ব্রী-ধান ২৯ জাতের ধান লাগানোয় ফলন ভালো হয়েছে। ক্ষেত তৈরী, বীজ, সার, চারা রোপন, পানি সেচ ও কীটনাশক বাবদ ৫০ হাজার টাকার মত খরচ করেছেন।  তার জমি থেকে ১০০ মণ ধান পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। বোরো ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত আতংকে থাকতে হয় বলে তিনি জানান। যে কোন মুহূর্তে শিলা ঝড়ে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করার আশংকা থাকে। তবে এ বছর ঝড়বৃষ্টি না থাকায় রোদ পাওয়ার কারনে ধান কাটা ও মাড়াই খুবই সহজ সাধ্য হচ্ছে। বর্তমান বাজারে ধানের দাম ১২শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান। ধানের দাম ভাল পাওয়ায় তিনি খুশি।

তাদের সংসারে স্ত্রী,মা, দুই ছেলে, দুই ছেলের বউ ও দুই মেয়ে সহ ৯ জনের পোষ্য রয়েছে। বড় মেয়ে সিমরান আক্তার (১২) অষ্টম শ্রেণীতে ও ছোট মেয়ে মারিয়া (৯) চতুর্থ শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। তিনি ধানের পাশাপাশি মৌসুমী সবজির আবাদ করে ভাল টাকা রোজগার করেন। সারা বছরের ভাতের ধান রেখে বাকি ধান বাজারে বিক্রি করে দেন। এতে সংসারের যাবতীয় খরচ চলে। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন সারা বছর কৃষি কাজ করলেও কৃষি বিভাগ হতে তিনি কোন সরকারী প্রনোদনা পাননি। সরকারী প্রনোদনা পেলে চাষাবাদে তার অনেক সাশ্রয় হতো। ধান মাড়াইয়ে শ্রমিক সংকট কাটাতে কোন কোন এলাকায় হারভেষ্টার মেশিনে ধান কাটা চলছে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ক্ষেতের ধান সময়মত ঘরে তুলতে পারছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর মৌসুমের শুরুতে ধানের বাজার ভাল বলে কৃষকরা জানিয়েছে।  ভরাডোবা গ্রামের কৃষক ইন্নুছ মিয়া জানান তিনি শুক্রবার  ব্রী-ধান ২৯ জাতের ৫ মণ ধান ভালুকা বাজারে ১২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান জানান এখনও পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা পাকা ধান কেটে সহজেই মাড়াই করে ঘরে উঠাতে শুরু করেছেন। এ মৌসুমে ভালুকা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হাইব্রীড ২১৬৫ হেক্টর, উফসি ১৬৪৭৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাত ১০ হেক্টর। অধিক ফসল উৎপাদনে বোরো আবাদে কৃষকদের আরও উৎসাহী ও সহযোহিতার লক্ষে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ৬৬০০ জন কৃষককে ৬৬০০ বিঘা জমিতে চাষ করার জন্য বোরো হাইব্রীড ২ কেজি বীজ। উফসী জাতের জন্য ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার  সরকারী প্রনোদনা হিসাবে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্যবছরের তুলনায় এ বছর সরকারী প্রনোদনার বোরো বীজ ও সার ৬৬০০ জন কৃষককে দেওয়ায় বাজারে সার ও বীজ নিয়ে কোন কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়নি। উৎপাদন লক্ষমাত্রা পুরন হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে ৭৬ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন ধান ফলন হিসেবে কৃষকের গোলায় উঠার  সম্ভাবনা রয়েছে ।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৮৯০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই