তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২১, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

শীতের পিঠাই অবিরনের ভাগ্যের চাকা সচল

শীতের পিঠাই অবিরনের ভাগ্যের চাকাকে সচল রেখেছে
[ভালুকা ডট কম : ১২ ফেব্রুয়ারী]
হরেক রকম ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। অন্যান ঋতুর প্রভাব বর্তমানে বাঙ্গালীর জীবনে কড়া না নাড়লেও শীত ঋতুর কিছু ঐতিহ্য আজোও বাঙ্গালীর জীবনে দাগ ফেলে যাচ্ছে। শীতের ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নানা রকমের পিঠা। অনেকেই মৌসুম ভিত্তিক এই পিঠের ব্যবসা করে জীবনের চাকাকে সচল রেখেছেন।

শীত অনেকের জীবনে কষ্টদায়ক হলেও কারো কারো জীবনে শীত আর্শিবাদ হয়ে আসে। শীতের পিঠা স্বাদে এনে দেয় নতুন মাত্রা। এই পিঠা বিক্রি করে চলে অনেকের সংসারে ভাগ্যের চাকা। পিঠা বিক্রেতারা শহরের মানুষদের পিঠা খাওয়ার সাধ মেটাচ্ছে এবং শীতের পিঠা কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে তাদের পরিবারের জন্য।

এমনই এক পিঠা বিক্রেতা তিন ছেলে সন্তান এর জননী অবিরন খাতুন। বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল ১৬বছর। পড়াশোনার করে ইচ্ছে ছিল সরকারি কোন চাকুরি করবে। কিন্তু মা-বাবার অভাবের সংসারে তা হয়ে উঠেনি। বিয়ে হয় নওগাঁ সদর উপজেলার জনকল্যান এলাকার একই মহল্লার লাইজুন ইসলামের সাথে। বিয়ের পর অবিরন যেন আরো অসহায় হয়ে পড়ে। স্বামী বেকার ভাড়া বাড়িতে থাকে। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত অবস্থা স্বামীর সংসারে। বিয়ের পর অবিরন এর স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর সুখের সংসার হবে। কিন্তু অভাবের তাড়নায় সেই স্বপ্ন যেন চিরতরে বিলিন হয়ে গেছে তার জীবন থেকে। বেকার স্বামী ঠিকমত কাজ করে না। মাঝে মাঝে রিকশা চালায় তবুও নিয়মত নয়। সংসারের হাল অবিরনের কাঁধে।

এরপর অভাবের তাড়নায় ভাড়া বাড়ি থেকে গত এক বছর যাবত বড় ভাইয়ের দেয়া টিনের একটি ঝুপরি বাড়িতে বসবাস করেন স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে । দুই সন্তান এর মধ্যে বড় সন্তান ৪র্থশ্রেনীতে পড়ে, বাঁকি দুই সন্তান এর মধ্যে একজনের বয়স ২বছর আর এর জনের বয়স দেড় বছরের মত।

গত বছর থেকে অবিরন খাতুন শীতের মৌসুমে নওগাঁ শহরের প্রধান প্রাণ কেন্দ্র মুক্তির মোড়ে রাস্তার পাশে সাতপুতি পিঠা বিক্রি করে থাকেন। পিঠা বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে সংসারের চাকা।

অবিরনের তৈরি পিঠা খেতে খেতে কথা হয় তার সাথে, অবিরন বলেন, গত বছর থ্যাকা পিঠার বিক্রির কাম শুরু করিচি। স্বামী হামার বেকার বাড়িত তিনডা ছেলে সন্তান আচে। এ্যানা কাম-কাজ না করলে সবাক লিয়া রাস্তাত যে বসা লাগবে, কি আর করমু তাই পিঠা বিক্রি করা সংসার চালানার চেষ্টা করিচ্চি।

পিঠা বিক্রি করে কেমন আয় হয় জানতে চাইলে অবিরন খাতুন বলেন, প্রতিদিন ৫কেজি আটা, ১কেজি কাঁচা মরিচ, ১কেজি পেঁয়াজ, ২০০গ্রাম ধনিয়া পাতা, শুকনো কাঠের খড়িসহ ৭০০টাকার মত খরচ হয়। আর ৭০ থ্যাকা ৮০জনের মত কাষ্টমার প্রতিডা দিন পিঠা খায়। একচার মাঠির বড় পেয়ালাত ৭টা পিঠা তৈরি হয় প্রতিডা পিঠা তিন টেকা করা দামে বিক্রি করি। সব খরচ বাদ দিয়া ৩০০-৩৫০টেকার মত লাভ হয় হামার।

অবিরন বলেন, যে দিন রাস্তা দিয়া গাড়ি লিয়া যাবার সময় বড়লোক বাবুরা নামা পিঠা খায় আবার সাথে বড়ির জন্নি কিনা লিয়া যায় সেদিন এ্যানা বেশি বেচা-কেনা হয়।শীতের মৌসুম ছাড়া অন্য সময় কি কাজ করেন জানতে চাইলে অবিরন খাতুন বলেন, শীতের সময়োত পুরাদিনই পিঠা খায় মানুষ তয় হামি সন্ধ্যাবেলার দিকোত পিঠা বিক্রি করি সন্ধ্যার সময়োত বেশি বেচা-কেনা হয়। ছোট বেলাত হামার মায়ের কাচে থ্যাকা পিঠা বানানা শিখিচি। কয়েক ধরনের পিঠা হামি বানাবার পারি। একন শীতকাল যত দিন থ্যাকে ততদিন হামি এই সাতপুতি পিঠা বেচাকিনা করমু তার পর গরমের সময়োত পাটিসাপটা, কুসলি, লারিকেলের বরফি পিঠা এগুলা তৈরি করে বিক্রি কনমু ভাবচ্চি।

অবিরন খাতুন বলেন, গরীব মানুষ হামি কিন্তু মানষের কাচে হাত পাতা পারমুনা। অনেক মানুষ তারকে বাড়িত হামাক ঝিয়ের কাম দিবা চাসলো কিন্তু সেডা করবা পারমুনা আর সেডা দিয়ে সংসারও চলবেনা। তাই লিজে কষ্ট করা এই পিঠা বিক্রির কামডাই হামার কাছে ভালো মনে হচ্চে। আর হামার এই কাজোত বড় ছোলডাও সাহায্য করে। কিন্তু স্বামীডা যদি এ্যানা কাজ-কাম ভালো করা করলোনি তয় হামাকে সংসারডা ভালো মত চললোনি।

একরাশ হতাশা ও নিয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে অবিরন বলেন, কি আর করমু সবই কপাল হামার। জীবনডা খালি কষ্টের মাঝেই কাটা গেলো। তয় হামি ভাঙ্গা পড়িনি হামি না হয় লেকাপড়া করবার পারিনি কিন্তু হামার তিনছোলডাক মানুষের মত করা মানুষ করমু। যত কষ্টই হোক।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

লাইফস্টাইল বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই