তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় বিদ্যালয়ের পাশে অবৈধ ইটভাটা

ভালুকায় বিদ্যালয়ের পাশে অবৈধ ইটভাটায় পুরছে কাঠ ফসলের ক্ষতি হুমকিতে জনস্বাস্থ্য
[ভালুকা ডট কম : ১২ জানুয়ারী]
ভালুকার বিভিন্ন জনবসতিপুর্ণ এলাকা ও বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ফসলী জমিতে অনুমোদন বিহীন প্রায় ১৪/১৫টি ইটভাটায় পরিবেশ আইন অমান্য করে দেদারছে লাকড়ি পুরানোর ফলে বৃক্ষ শুন্য হয়ে এলাকার পরিবেশ ধ্বংস, ফল ফসলের ক্ষতি সহ হুমকিতে পরছে জনস্বাস্থ্য। ইট তৈরীর জন্য এলাকার বিভিন্ন স্থান হতে ফসলী জমির টপ সয়েল কেটে নেয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফসল উৎপাদন ক্রমশ হ্রাশ পাচ্ছে।

অপরদিকে ইটভাটা হতে নির্গত কালো ধূঁয়া মানুষের বাড়ি ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের ফলে শিশু কিশোর শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন সর্দি কাশি ও শ্বাসকষ্টের মত জটিল রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ইটভাটা হতে ক্রমাগত সাদা কালো ধূয়া চারিদিকে ছড়ানোর ফলে কৃষকের ফল ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। ১১ জানুয়ারী বুধবার সরজমিন উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ধলিয়া পলাশতলী গ্রামে গেলে চোখে পরে পূর্ব ধলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ফসলি জমিতে পাশাপাশি তিনটি ইট ভাটায় পুরানো হচ্ছে কাঠ কয়লা। লড়ি ভর্তি কাঠ এনে ফেলা হচ্ছে ভাটার চিমনির পাশে। ভাটা সংলগ্ন বাসিন্দা কৃষক সহিদ পাঠান জানান লাকড়ি পুরানোর সময় ইট ভাটা হতে সাদা ধূয়া আর কয়লায় নির্গত কালো ধূয়ায় এলাকা ছেয়ে যায়।

এসব ধূয়ার কারনে তাদের ক্ষেতে মরিচ ফুল ঝরে পরে, লাউ, সীম,আমের মুকুল ঝরে পরে গাছের ফল খেতের ফসল সব নষ্ট হয়ে যায়। ছোট ছেলে মেয়েরা সর্দি কাশি সহ বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকে প্রায় সময়। ভাটা সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস জাহান জানান তার স্কুলে প্রায় ২০০ শিশু ছাত্র ছাত্রী রয়েছে। বছরের পর বছর ইট ভাটা হতে নির্গত কালো ধূয়া ও আবর্জনা বাতাসে উড়িয়ে আনায় ছেলে মেয়েদের স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে মাত্র ২০০ গজের মধ্যে একাধিক ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি পাওয়া কিভাবে সম্ভব বিষয়টি তার বোধগম্য নয়। স্বাস্থ্য ঝুকি হতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের রক্ষার জন্য বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থান থেকে ইটভাটা সরিয়ে নিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন।

ওই এলাকার কৃষকরা জানায় ছাই মিশ্রিত ধূয়া গাছ গাছালী ও ফসলের ক্ষেতে অনবরত পরার কারনে আম কাঠাল লিচুর মুকুল ও রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। সচেতন মহল মনে করেন অনবরত ফসলী জমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে ইট তৈরীর কাচা মাল হিসেবে ব্যবহার করায় জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পেয়ে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। =কাঠখড়ি দিয়ে ইট পোড়ানোর কারনে এলাকার ফলদ ও বনজ বৃক্ষের ব্যপক ক্ষতি সাধনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনার আশংকা দেখা দিচ্ছে দিন দিন। ইট প্রস্তÍুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ যা ১জুলাই ২০১৪ হতে কার্যকর এ বলা হয়েছে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ, উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা অর্থাৎ জিগজাগ ক্লিন,হাইব্রিড হফম্যান ক্লিন, ভাটিকেল সফটক্লিন বা অনুরুপ উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। এ ছারা আবাসিক, জনবসতিপুর্ণ সংরক্ষিত বনভূমি এলাকা ও ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবেনা। বনাঞ্চল হতে কমপক্ষে ২ কিলোমিটার দুরে ভাটা স্থাপন করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছারপত্র,জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ও লাইসেন্স ব্যতিত ইটভাটা স্থাপন করা যাবেনা। এসব নিয়ম অমান্যকারীর বিরুদ্ধে জেল জরিমানার বিধান থাকলেও অজ্ঞাত কারনে বছরের পর বছর অনিয়মকেই পুজি করে ভাটা মালিকরা বীর দর্পে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ভালুকার মেদিলা, ভান্ডাব, ভায়াবহ. মেদুয়ারী, রাংচাপড়া,বিরুনিয়া,ধলিয়া পলাশতলী, শান্তিগঞ্জ, চান্দরাটি ও উড়াহাটি এলাকায় ১৫ টির মত ইটভাটা রয়েছে যার বেশীরভাগ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছারপত্র নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ভাটা মালিক জানান প্রতিটি ইটভাটা থেকে ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারীকে মোটা অংকের টাকা দেয়া হয় সার্বিকদিক দেখবাল করার জন্য। কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই তারা ছারপত্র বিহিন ইটভাটা চালাচ্ছেন বছরের পর বছর।

উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান ভালুকায় ১৫ টি ইটভাটা রয়েছে। তার মাঝে চারটির লাইসেন্স থাকলেও দু’টির নবায়ন আছে। সার্বিকদিক ম্যানেজ করেই বরাবর যেভাবে চালানো হয়ে থাকে, এ বছরও সেভাবেই ভাটাগুলো পারিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা আঞ্চলিক শাখার সদস্য সচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল জানান, উপজেলার বেশিরভাগ ইটভাটাই লাইসেন্সবিহিন ও নিতিমালা বর্হিভূত ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। রহস্যজনক কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর নির্বিকার। পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের পরিচালক দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, ভালুকা উপজেলায় যেসকল ইটভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র নেই, অভিযানের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৬৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই