তারিখ : ৩০ নভেম্বর ২০২২, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নরসিংদীতে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৪

নরসিংদীতে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৪
[ভালুকা ডট কম : ০৪ নভেম্বর]
নরসিংদীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় নির্বাচনে ইউপি মেম্বার প্রার্থী আবু খায়ের গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত ১০ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজানপুন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-  নেকজানপুর গ্রামের কটুমিয়ার ছেলে আমির হোসেন (৪৫) একই গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে আশ্রাফুল (২২), আব্দুল মনু মিয়ার মেয়ে খুশি বেগম (৫০) ও অজ্ঞাতনামা আরও একজন। তারা সবাই আলোকবালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থক।

চেয়ারম্যান দীপুর অভিযোগ,নির্বাচনে আসাদউল্লাহ ভাই আমাকে সর্মথন জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন। ভেবেছিলাম তিনি আমার সঙ্গে মিলে গেছেন। কিন্তু নানা অজুহাতে আসাদউল্লাহ ভাই ও তার সমর্থকরা আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় এবং চারজনকে গুলি করে হত্যা করে। আমি এর বিচার চাই।

অপরপক্ষ আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদউল্লাহ বলেন, এই ঝগড়ায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি দীপুকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছি। গ্রামে ঝগড়া যেন না হয়, তার জন্য ঊর্ধ্বতন নেতাকর্মীসহ পুলিশের সঙ্গে বসেছি। তাদের সহযোগিতাও চেয়েছি। কিন্তু দুই মেম্বার সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আমির হোসেন নামে আমার এক আত্মীয়ও মারা গেছেন।

পুলিশ জানায়, আগামী ইউপি নির্বাচনে আলোকবালি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু। একইসঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদউল্লাহ। এদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পান বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

এরমধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন অ্যাডভোকেট আসাদউল্লাহ। সবশেষ দলীয় চাপে ২৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুর ৩টার দিকে বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন আসাদুল্লাহ। ওইদিনই কথাকাটাকাটির জের ধরে উভয় পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে উভয় পক্ষের পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।ওই দ্বন্দ্বের জেরেই বৃহস্পতিবার সকালে আসাদউল্লাহর সমর্থকরা দীপু সমর্থদের ওপর হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজন নিহত ও ৩০ জন আহত হন।

নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব ছিল। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওগাতুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মরদেহ নরসিংদীর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি বলে তিনি জানান। #



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৫৩৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই