তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় মধু সংগ্রহ করছেন কৃষকরা

মৌয়ালদের পাশাপাশি এবারই প্রথম নওগাঁয় মধু সংগ্রহ করছেন কৃষকরা
[ভালুকা ডট কম : ১১ জানুয়ারী]
প্রথমবারের মতো নওগাঁয় এবার সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন কৃষকরা। বর্তমানে মৌ বাক্সের মাধ্যমে মৌয়ালদের পাশাপাশি কৃষকরাও মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের সরিষা মাঠ থেকে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র বৃদ্ধি ও আগ্রহী কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে আর্থিক ভাবে লাভবান করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে কর্মসূচি। সরিষা চাষের পাশাপাশি মধু আহরণ করে দ্বিগুন লাভবানও হচ্ছেন জেলার অনেক কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,  চলতি মৌসুমে নওগাঁর সরিষার মাঠ থেকে মৌয়ালদের পাশাপাশি কৃষকদের মাধ্যমেও মধু সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে জেলার রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মান্দা উপজেলার আগ্রহী কৃষকদের মধু সংগ্রহ করার জন্য তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় আগ্রহী কৃষকদের মৌ বাক্স ও সার্বিক কারিগরী সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রত্যক কৃষককে প্রাথমিক ভাবে বিনামূল্যে ৫টি করে মৌ বাক্স প্রদান করা হয়েছে। অনেক কৃষক আবার নিজের অর্থায়নে মৌ বাক্স কিনে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন। এতে করে একজন কৃষক অনেক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। প্রতি মৌ বাক্স থেকে সপ্তাহে একবার মধু সংগ্রহ করা যায়। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে সরিষা ফুলের খাটি মধু নিতে প্রতিনিয়তই ভীড় জমাচ্ছেন। নিজের জমি ও আশেপাশের জমিতে চাষ করা সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করার কার্যক্রম দেখে অনেক কৃষকও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের কৃষক ও মধু সংগ্রাহক জহুরুল ইসলাম বলেন আমি আগে জানতাম না যে মধু সংগ্রহ অত্যন্ত লাভজনক একটি মৌসুম ভিত্তিক ব্যবসা। কৃষি বিভাগের উৎসাহে আমি মধু সংগ্রহ করতে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেক লাভবান হয়েছি। নিজের জমির সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করতে পারছি। অপরদিকে ক্রেতাদের কাছে খাঁটি মধু পৌছে দিতে পেরে আমি অনেক খুশি। বর্তমানে জমিতে প্রতি কেজি মধু ৪০০টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। প্রতিদিন অনেক মানুষকে বিনামূল্যে মধু খাওয়াতে পেরে আমি ধন্য। তাই যে কারো পক্ষে মৌসুম ভিত্তিক মধু সংগ্রহ করে অনেক লাভবান হওয়া সম্ভব।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা হক বলেন চলতি মৌসুমে উপজেলার একডালা ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামের সরিষার মাঠে ৮০টি মৌ বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন কৃষক জহুরুল ইসলাম ও আজিজুল ইসলাম। এছাড়া বড়গাছা ইউনিয়নে দুইজন কৃষক ২০টি ও মিরাট ইউনিয়নে একজন মৌয়াল ৬০টি মৌ বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন। যদি সার্বিক পরামর্শ নিয়ে সরিষার ক্ষেতের পাশে মৌ বাক্স ফেলে মধু সংগ্রহ করা যায় তাহলে খুব সহজেই একদিকে যেমন মধু পাওয়া যাচ্ছে অপরদিকে সরিষার ফলনও অনেক বেশি পাওয়া সম্ভব। এই ধারণাকে কৃষকদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সকল কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলার সরিষা ক্ষেতে ৮৯৫৩টি মৌ বাক্স স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২লাখ ৬৯হাজার ৮৩কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার অবশ্যই লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি মধু সংগ্রহ হবে। সরকারের এমন উদ্দ্যোগ নি:সন্দেহে খুবই ভালো। একটি সরিষার ক্ষেতে যত বেশি মৌমাছি থাকবে সেই জমির সরিষার ফুলে তত বেশি পরাগায়ন হবে। ফলে ওই জমির থেকে সরিষার ফলনও অনেক বেশি পাওয়া সম্ভব। তাই আগামীতে আরো অনেক কৃষকের পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত বেকার যুবরাও এমন লাভজনক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

জীবন যাত্রা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৮৯০৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই